‘ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে পানি তুলছে রোহিঙ্গারা, নামছে স্তর’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৬ এএম, ২২ জুন ২০২১ | আপডেট: ০৬:১৬ এএম, ২২ জুন ২০২১
ফাইল ছবি।

রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর তৎপরতা আরও বহুগুণ বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন কক্সবাজারে কাজ করা বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিরা।

এসময় বক্তারা বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যবহারের জন্য পানি সরবরাহ করতে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে প্রচুর পানি তোলা হচ্ছে। ফলে পানির স্তর ক্রমেই নিচ নামছে। এতে কৃষকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হচ্ছে।’

jagonews24

সোমবার (২১ জুন) ‘বিশ্ব শরণার্থী দিবস’ উপলক্ষে কক্সবাজারে কর্মরত ৫০টি স্থানীয় ও জাতীয় এনজিও-এর নেটওয়ার্ক-কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) আয়োজিত এক ওয়েবিনার এ বক্তব্য উঠে আসে।

সিসিএনএফ-এর কো-চেয়ার আবু মোরশেদ চৌধুরী বলন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব মিয়ানমারের। শুধু মানবিক সহায়তাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের প্রচেষ্টা বাড়ানো উচিত। জাতিসংঘেরর উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি কূটনীতি, বিকল্প কূটনীতি তথা ট্র্যাক টু কূটনীতি এবং সুশীল সমাজেরও কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।’

হেল্প কক্সবাজার-এর নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যবহারের জন্য পানি সরবরাহ করতে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে প্রচুর পানি তোলা হচ্ছে। ফলে পানির স্তর ক্রমেই নিচ নামছে। এতে কৃষকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হচ্ছে।’

jagonews24

তিনি বলেন, ‘নাফ নদী এবং রেজু খালের পানি সংশোধন করে তা ক্যাম্পে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরবরাহ করা যতে পারে। পাশাপাশি ক্যাম্পগুলোতে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা উচিত।’

দুর্যোগ ফোরামের গওহর নঈম ওয়াহরা বলন, ‘ভূগর্ভস্থ পনির ব্যবহার এখনই বন্ধ করে দেয়া উচিত। বৃষ্টির পানি ধরে রেখে তা ব্যবহার একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারর পরিবর্তে ধানের তুষভিত্তিক চুলা চালু করা প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুটকি মাছ ও লবণ ক্রয় করা গেলে তা অর্থনৈতিক উন্নতিতে ভূমিকা রাখবে।’

সিসিএনএফ-এর আরেক কো-চেয়ার রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘যেহতু তহবিল হ্রাস পাচ্ছে, তাই আমাদের ন্যূনতম খরচেই সর্বাধিক পরিষেবা নিশ্চিত করার কৗশল নিয়ে ভাবতে হবে। সহায়তার স্বছতা এবং সহায়তার স্থানীয়করণের পাশাপাশি প্রত্যাবাসন নিয়েও উদ্যোগ নিতে হবে এবং প্রতিবেশি দেশগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।’

এসএম/এএএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]