হেফাজতের আন্দোলনে অংশ নেয়া আলেমদের মুক্তির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৯ পিএম, ২২ জুন ২০২১

হেফাজতের আন্দোলনে আবেগের বশবর্তী হয়ে অংশ নিয়ে যেসব আলেম-ওলামা কারাগারে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে ইউনাইটেড ইসলামিক স্কলার্স ফোরাম।

পাশাপাশি সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনে সংঘঠিত অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত বিচার শেষ করাসহ ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২২ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খা হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উপস্থাপন করেন ফোরামের মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘কওমী মাদরাসার শিক্ষার মান সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে মাদরাসার অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক ভিন্ন কোনো প্লাটফর্ম গঠন করার প্রয়োজনীয়তা নেই।’

তিনি বলেন, ‘দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন আল্লামা আহমদ শফী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বাবার মতো শ্রদ্ধা করতেন। তার ইন্তেকালের মাধ্যমে কওমী আলেম-ওলামাসহ দেশের সর্বস্তরের ইসলাম প্রিয় তৌহিদী জনতা অভিভাবক হারা হয়ে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। যার ফলে আলেম-ওলামাসহ ইসলাম প্রিয় তৌহিদী জনতাদের মধ্যে নানাবিধ মতানৈক্য সৃষ্টি হচ্ছে। যা মুসলিম জাতির জন্য অশনিসংকেত।’

অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘শিষ্টাচার, উত্তম চরিত্র গঠনের কেন্দ্র এই কওমী মাদরাসা। এক কথায় সোনার মানুষ গড়ার এক আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই কওমী মাদরাসা। আজ সেই ইতিহাস-ঐতিহ্য ধুলায় মিটিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী। তারা অরাজনৈতিক খোলসে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংগঠনের আবির্ভাবের মাধ্যমে হক্কানি আলেম-ওলামাদের মধ্যে বিভক্তি আর চরম মতদ্বৈততা সৃষ্টি করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশ ও জাতির কল্যাণে ইসলাম ও মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।’

সংগঠনটির অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- কওমী মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে ধর্মীয় সংঘাত নির্মূল ও সন্ত্রাসী অপতৎপরতা, নৈতিক এবং সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধকল্পে সচেতনতামুলক দ্বি-মাসিক সভার আয়োজনা করা, কওমী মাদরাসা শিক্ষাকে যুযোপযোগী করার লক্ষ্যে সব কওমী মাদরাসার শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা, কওমি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে ইংরেজি ভাষাসহ বিদেশি ভাষা শিক্ষা কোর্স চালু করা, চারিত্রিক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ধর্মের ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, বিবাহ বহির্ভূত অবাধ যৌনাচার বন্ধ করতে, মাদক প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এন্ড্রয়েড মোবাইল ও ফেসবুক ব্যবহার করতে পারবে না এই মর্মে নীতিমালা প্রণয়ন করা, ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় উসকানিমূলক এবং ধর্মীয় সংঘাত, সম্প্রীতি বিনষ্ট করার মতো স্ট্যাটাস দানকারীকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করা।

এছাড়া কিছু বক্তা ধর্মীয় আলোচনার নামে মসজিদে বা মাহফিলের মঞ্চে বিভিন্ন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা কোনো সম্প্রদায়কে কটাক্ষ করে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সুনাম বিনষ্ট করছে জানিয়ে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও দুরদর্শিতা সম্পন্ন প্রকৃত হক্কানি আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখরা যাতে নির্বিঘ্নে এবং নিরাপদে ওয়াজ মাহফিল অথবা ইসলামের সুমহান বাণী মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেন সে লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মাধ্যমে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামিক স্কলার্সদের সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করা, বাংলাদেশের কওমী, আলিয়া মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ লাইব্রেরি স্থাপন করা, ছাত্রসমাজকে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ভাষা দিবসসহ সব জাতীয় দিবস ও ঐতিহাসিক দিবস উপলক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা সভা, সেমিনার, সিস্পোজিয়ামের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, কওমী মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে খুলে দেয়া।

এসএম/এমআরআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]