‘পুকুর-নদীর পানি কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেদিকে নজর দিতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৬ পিএম, ২২ জুন ২০২১

কেবল টিউবওয়েল গেড়ে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার না করে উপরিভাগের পানি বেশি পরিমাণে ব্যয় করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কীভাবে খালের পানি, নদীর পানি, পুকুরের পানিকে পরিষ্কার করে ব্যবহার করা যায়, সেদিকে নজর দিতে হবে।’

মঙ্গলবার (২২ জুন) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘গোপালগঞ্জ জেলার পল্লী এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্পের অনুমোদন দিতে গিয়ে এমন নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। একনেক সভা শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

যদিও এই প্রকল্পের আওতায় তিন হাজার ২০৯টি ৬ নম্বর গভীর নলকূপ, ২২২টি সাবমার্সিবল পাম্প ও জলাধারসহ গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে।

গোপালগঞ্জের পল্লী এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর বাস্তবায়ন করবে। ২৬১ কোটি ৩৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা খরচে ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। গোপালগঞ্জ সদর, কাশিয়ানি, মুকসুদপুর, টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলার পল্লী এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

গভীর নলকূপ ও সাবমার্সিবল পাম্পের উপাদান ছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় ১৫টি গ্রামীণ পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই (সারফেস ওয়াটার ৫০ ঘন.মি./ঘণ্টা), ১৫টি গ্রামীণ পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই (গ্রাউন্ড ওয়াটার ৫০ ঘন.মি./ঘণ্টা), ১৫টি রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্ট (১৫০০ লিটার/ঘণ্টা), ১১৩৯টি নলকূপসহ আর্সেনিক আয়রন রিমোভাল প্ল্যান্ট, ১৫টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ (এ টাইপ), ২০টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ (বি টাইপ), ছয় হাজার ২৪০টি অফসেট টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণ করা হবে।

এ প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন তা তুলে ধরতে গিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বৃষ্টির পানির প্রতি তার (প্রধানমন্ত্রীর) নজর আছে। বৃষ্টির পানি অত্যধিক বিশুদ্ধ। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে হবে। উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় চাষাবাদ, খাবার পানি সবকিছু থেকে লবণাক্ততা থেকে দূরে আনতে হবে। এ কাজটা করতে হবে। যে বিভাগ যেখান থেকে কাজ করছে, তারা সেখান থেকে নজরে রাখবে। শুধু টিউবওয়েল গেড়ে আন্ডারগ্রাউন্ড পানি না নিয়ে উপরিভাগের পানি বেশি পরিমাণে ব্যয় করতে হবে। কীভাবে খালের পানি, নদীর পানি, পুকুরের পানিকে পরিষ্কার করে ব্যবহার করা যায়, সেদিকে নজর দেয়ার জন্য তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।’

গোপালগঞ্জের পল্লী এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রকল্পের আওতায় পাইপ ওয়াটার সাপ্লাইয়ের (পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ) একটা উপাদান আছে। শহরে আমরা যেগুলো ভোগ করি। মাথার ওপরে পানির ট্যাঙ্কি। আমরা সবাই পরিচিত। সেই ট্যাঙ্কিগুলো স্থাপন করে বাড়ি বাড়ি মা-চাচিদের সরাসরি ২৪ ঘণ্টা পানি সরবরাহ করব। আমাদের সরকার প্রধানের যে ঘোষণা, গ্রাম হবে শহর, সেই পরিপ্রেক্ষিতে এটা একটা বিশাল পদক্ষেপ। গ্রামে বিদ্যুৎ আমাদের সরকার নিয়ে গেছে। আমরা সুপেয়পানি ও পরিষ্কার স্যানিটেশন দেব। তাহলে তো আমরা বলতে পারব, শহরের পরিবেশ এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশেই এটা (নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন) যাবে। প্রধানমন্ত্রী এ সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। তিনি আজ যে পদক্ষেপ নিলেন, এটা ঐতিহাসিক। সুদূরপ্রসারী এর প্রভাব পড়বে গ্রামীণ স্বাস্থ্যে। এমনকি দারিদ্র্যদূরীকরণে এটি সরাসরি ভূমিকা রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এ প্রকল্পকে সমর্থন করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমি যতদিন এখানে আছি, এই ধরনের প্রকল্প যত আসবে, জেনে না-জেনে, বুঝে না-বুঝে, যেভাবে হোক আমরা এটাকে পুশ করব। এগুলোকে আমরা তড়িৎ অগ্রাধিকার দিয়ে সামনে নিয়ে আসব। গ্রামের মানুষের কল্যাণে, দরিদ্র মানুষের কল্যাণে, নিম্ন আয়ের মানুষের কল্যাণে যত প্রকল্প আসবে সেটাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।’

পিডি/বিএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]