পৌর আদালত শক্তিশালী করতে আইন সংস্কারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৯ পিএম, ২২ জুন ২০২১ | আপডেট: ০৯:২৪ পিএম, ২২ জুন ২০২১

বিরোধ মীমাংসায় (পৌর এলাকা) বোর্ড আইন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন দেশের পৌর মেয়ররা। তারা বলেছেন, ‘গ্রাম আদালতে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষতিপূরণ ৭২ হাজার টাকা ধরা আছে। কিন্তু পৌরসভা আইনে ক্ষতিপূরণ সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রহণযোগ্য আইন হতে পারে না।’

মঙ্গলবার (২২ জুন) এক ওয়েবিনারে তারা এই দাবি জানান। মাদারীপুর লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশন (এমএলএএ), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), নাগরিক উদ্যোগ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

ওয়েবিনারে বক্তারা বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পতিতে সালিশ ব্যবস্থার পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম আদালত এবং পৌরসভা পর্যায়ে বিবোধ মীমাংসা (পৌর এলাকা) বোর্ড আইন ২০০৪ বিদ্যমান। পৌর মেয়র, কাউন্সিলর ও পৌর কর্মকর্তারা নাগরিক সেবার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিকভাবে বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রতিনিয়ত ভূমিকা রাখছে। কিন্তু পৌর বোর্ডের আর্থিক এখতিয়ার খুবই সীমাবদ্ধ থাকায় পৌরসভাসমূহ আইনের আওতায় বিরোধ নিষ্পত্তিতে জোড়ালো ভূমিকা রাখতে পারছে না। সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগের কারণে গ্রাম আদালত আইনটির একাধিক সংশোধন হলেও পৌর বোর্ড আইনটি মূলত অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।’

সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিউনিসিপাল অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ম্যাব) ও নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, ‘বিরোধ মীমাংসা পৌর আইনে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ ২৫ হাজার টাকা। গ্রাম আদালত আইনে ক্ষতিপূরণ ৭২ হাজার টাকা। যেটা পৌর শহরের মূল্যায়ন হয় না। এই সংস্কার জরুরি। তা না হলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।’ তবে তিনি আইন সংস্কারে কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

ম্যাবের মহাসচিব ও মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বলেন, ‘পৌরসভাকে শক্তিশালী করতে হলে পৌর আদালত সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসা আইন সংশোধন করতে হবে। কেননা, বিদ্যমান দুর্বলতা রেখে সামনে এগোনো সম্ভব হবে না। আইন মোতাবেক পৌরসভায় সিইও (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) নিয়োগের বিধান রয়েছে। পৌর মেয়রদের অধীনস্ত এসব কর্মকর্তার সার্ভিস বুক কর্তৃত্ব আবার মেয়রদের হাত থাকছে না। এটা হলে তো পৌর সংস্থাগুলো শক্তিশালী হবে না।’

লাকসাম পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক আবুল খায়ের বলেন, ‘গ্রাম আদালত আইনের নীতিমালা রয়েছে। কিন্তু পৌর আইন যেটা রয়েছে সেটা দুঃখজনক। অথচ গ্রামের তুলনায় শহরের জনসংখ্যা অনেক বেশি। মানুষের আয়ও বেশি। তাহলে কেন গ্রাম আদালতের চেয়ে বিরোধ মীমাংসা পৌর আইনের ক্ষতিপূরণ কম?’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হলে পৌর আদালতকে কাঠামোর দুর্বলতাগুলোও দূর করতে হবে। এ আইনটিকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আইনুন নাহার সিদ্দিকী, নরসিংদী পৌরসভার প্যানেল মেয়র ইয়াছমিন সুলতানা প্রমুখ। ওয়েবিনার পরিচালনা করেন নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী জাকির হোসেন। এসময় পৌর এলাকার বিরোধ মীমাংসা (পৌর এলাকা) বোর্ড আইন, ২০০৪ এর সীমাবদ্ধতা ও সুপারিশ নিয়ে তথ্যচিত্র উপস্থাপনা করেন মাদারীপুর লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশনের (এমএলএএ) প্রধান সমন্বয়ক মো. শহিদ।

এমএমএ/ইএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]