বাংলাদেশ এখন সাহায্য ও ঋণদাতা দেশ : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:২৪ এএম, ২৫ জুন ২০২১
ফাইল ছবি

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান দুলাল বলেছেন, ‌‘বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে শেখ হাসিনা সরকার বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। যার সুফল জনগণ ভোগ করছে। বাংলাদেশ এখন সাহায্য গ্রহণকারী দেশের কাতার হতে সাহায্য ও ঋণদাতা দেশের তালিকায় উন্নীত হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) আলহাজ্ব মো. ফরিদুল হক খান দুলাল অডিটোরিয়ামে ইসলামপুর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ৭৫০ কোটি টাকার বাজেট হতে বর্তমানে ৬ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার অধিক অর্থের বাজেট বাস্তবায়ন করছে। মাথাপিছু আয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহকে ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয় বরং শিক্ষা, প্রযুক্তি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রেও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের চেয়ে এগিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‌‘সমাজের বঞ্চিত এবং পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন ভাতা, অনুদান, খাদ্য সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ করে মানবসম্পদ হিসেবে তৈরি করছেন। এর ফলে বাংলাদেশের সামাজিক ক্ষেত্রে বিরাট পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।’

ফরিদুল হক খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। তিনি প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দরিদ্র ও পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত ভাতা, অনুদান, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির ভাতা সরাসরি উপকারভোগীর হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছেন। এতে করে উপকারভোগীরা সরাসরি সরকারের সুবিধা পাচ্ছেন এবং দুর্নীতির সুযোগ অনেকাংশে কমছে। ভবিষ্যতে যোগাযোগ প্রযুক্তি আরও বেশি কাজে লাগিয়ে সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং দুর্নীতি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মীয় ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি দেশের সখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী মুসলিম সম্প্রদায়ের কল্যাণে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে বিরল ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। একই সঙ্গে অন্যান্য ধর্মীয় জনগোষ্ঠী বিশেষ করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কল্যাণে তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ নির্মাণ, উন্নয়ন ও মেরামতের জন্য বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। সকল ধর্মের উন্নয়নে সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল কার্যক্রম পরিচালিত করছেন। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা ব্রিজ-কালভার্ট, রাস্তা-ঘাট, সড়ক, মহাসড়ক এবং তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ সকল সূচকে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটিয়ে চলছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ তার উন্নয়ন অভিযাত্রায় পরিচালিত হচ্ছে। আগামীদিনে দেশের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে।’

অনুষ্ঠানের প্রতিমন্ত্রী করোনার প্রভাবে কর্মহীন দরিদ্র অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা, প্রশিক্ষিত প্রতিবন্ধীদের মাঝে সেলাই মেশিন, নদী ভাঙনের কারণে দরিদ্র মানুষের মাঝে অর্থ সহায়তা বিতরণ করেন।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তথা মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা, ঈদগাহ, কবরস্থান, শ্মশানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দপ্রাপ্ত অনুদানের অর্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছে তুলে দেন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন হোসনে আরা এমপি, ইসলামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জামাল আব্দুন নাছের বাবুল, ইসলামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের শেখ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা এটিএম আবু তাহের, এসি ল্যান্ড মো. রুকুনোজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক আকন্দ, জামালপুর জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক লাল মিয়া, ইসলামপুর আব্দুস সামাদ মহিলা কলেজের প্রিন্সিপাল আবু নাছের চার্লেস চৌধুরী, ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান শাহজাহান, ইসলামপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আ. বারী মন্ডল প্রমূখ।

এমইউ/ইএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]