সীমান্তে ভারত-মিয়ানমারের মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণের আহ্বান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০১ পিএম, ৩০ জুন ২০২১

দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। বিশেষ করে মিয়ানমার ও ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় ওইসব দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক বাংলাদেশে ব্যবহৃত হওয়ায় দেশে অপরাধ ও নাশকতার আশঙ্কা থেকে এমন আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ।

বুধবার (৩০ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারি, মাদক বেচাকেনা, অর্থপাচার, মানবপাচার এমনকি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অন্যতম মাধ্যম মোবাইল নেটওয়ার্ক। বিশেষ করে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গারা উখিয়া ও টেকনাফে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিলে মোবাইল নেটওয়ার্কের অপব্যবহারের বিষয়টি সবার দৃষ্টিগোচর হয়। এমনকি এই মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে তারা জনসভা করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে।

বিভিন্ন মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের লক্ষ্য করা যায়, ১১ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় ৮-৯ লাখই বাংলাদেশ মোবাইল অপারেটরদের গ্রাহক। তার মধ্যে আরও ৩-৪ লাখ মিয়ানমারের মোবাইল কোম্পানি এমটিপির। আমরা মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধের দাবি জানালে সরকার ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য থ্রিজি ও ফোরজি সেবা বন্ধ করে দেয়। ঠিক এরপর থেকেই রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক বেশি করে ব্যবহার করতে শুরু করে। গ্রাহকদের দ্রুত সেবা ও ব্যবসার স্বার্থে মিয়ানমারে মোবাইল অপারেটর নাফ নদীর পাড়ে টাওয়ার বসায়।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আমরা আলোচনায় আনলে এমনকি গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা বিবৃতি দিলে দেশের জাতীয় অনলাইন ও জাতীয় পত্রপত্রিকা এমনকি বিবিসি-তেও সেই বক্তব্য প্রচারিত হয়। বর্তমান সময়ে টেকনাফের স্থানীয় নাগরিকরা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে বিড়ম্বনায় পড়লেও রোহিঙ্গা নাগরিকরা ঠিক ওই থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। একইভাবে ভারত সীমান্ত ঘেঁষে রিলায়েন্স জিও মোবাইল নেটওয়ার্ক এ টাওয়ার থাকায় সীমান্ত এলাকার নাগরিকরা সহজেই অন্য দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থপাচার, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা তথ্যপাচার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা বিষয়টি দ্রুত আমলে নিয়ে দুই দেশের টেলিকম নিয়ন্ত্রক কমিশনের আইন অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি।

এইচএস/এসএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]