অবৈধ মোবাইল শনাক্তকরণ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখবে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৫ পিএম, ০১ জুলাই ২০২১

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ‘টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণের পাশাপাশি ডিজিটাল অপরাধের বিস্তার ব্যাপক হারে বেড়েছে। এটি নিয়ন্ত্রণ আনতে না পারলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এর সঙ্গে রয়েছে অবৈধ হ্যান্ডসেট চোরাচালান ও ডিজিটাল নিরাপত্তা। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনইআইআর চালু করেছি যা এসব ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ অবদান রাখবে। এই পদ্ধতিটি কার্যত দেশের জনগণকে প্রতারণা থেকে নিরাপদ রাখার অন্যতম হাতিয়ার।’

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) অবৈধ ও নকল হ্যান্ডসেট বন্ধে পরীক্ষামূলকভাবে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার বা এনইআইআর (NEIR) কার্যক্রম চালুর সময় এ কথা বলেন তিনি। রাজধানীতে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী টেলিকম সেক্টরে এনইআইআর একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক উল্লেখ করে বলেন, ‘নতুন প্রবর্তিত এই পদ্ধতিতে যাতে জনগণ সামান্যতম ভোগান্তির শিকার না হয় সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তৈরি সফটওয়্যারের মাধ্যমে এনআইআর প্রবর্তন একটি যুগান্তকারী ঘটনা উল্লেখ করেন।’

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘বাংলাদেশ ১৯৮৯ সালে মোবাইল যুগে প্রবেশ করলেও ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত মোবাইল ফোন ছিল সাধারণের নাগালের বাইরে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রযুক্তিবান্ধব দূরদৃষ্টি সম্পন্ন কর্মসূচির ফলে মোবাইলের মনোপলি ব্যবসা বন্ধ হয়, চারটি অপারেটরকে লাইসেন্স দেয়ার মাধ্যমে মোবাইল ফোনকে সহজলভ্য করে সাধারণের নাগালে পৌঁছে দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হয়। টেলিকম ইন্ডাস্ট্রি বিকশিত হওয়ায় দেশে আজ ১৭ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহৃত হচ্ছে। মোবাইলে অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে ইতোপূর্বে সিম ডাটা বেজ রেজিস্ট্রেশনের আনা হয়েছে। এই নিবন্ধন থাকায় অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।’

‘এখন সিমের সঙ্গে সেট নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসছি এনইআইআর এর মাধ্যমে,’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘মোবাইল চুরি, ছিনতাই সরকারি রাজস্ব ফাঁকিরোধ ছাড়াও ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি প্রবর্তনের মূল লক্ষ্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন বিদ্যমান প্রতিটি সেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করতে হবে বিটিআরসিকে।’

জনগণ যেন কোনো অবস্থাতেই ভোগান্তির শিকার না হয় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই কোনো অভিযোগ যেন না আসে। মোবাইল ব্যবহারকারী অনেকেই শিক্ষিত নয়, রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারে তাদের করণীয় আমাদেরকেই করতে হবে। এ গুলোর জন্য গ্রাহকের ভোগান্তি হলে মহৎ কাজটির উদ্দেশ্য ম্লান হয়ে যাবে।’

কোয়ালিটি অব মোবাইল সার্ভিস নিশ্চিত করতে, অবৈধ মোবাইল সেটের ব্যবহার বন্ধে এবং গ্রাহকসেবা ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে সহায়তা করার জন্য সেটের তথ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এই উদ্যোগ নেন।

২০১৯ সালের ১৩ মে  বিটিআরসির বিভিন্ন কার্যক্রম সংক্রান্ত সভায় বিটিআরসির ব্যবস্থাপনায় এনইআইআর চালু করতে মন্ত্রীর নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় এই কার্যক্রম নিয়ে প্রকল্প গৃহীত হয়।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. আফজাল হোসেন, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাহাব  উদ্দিন, গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

এইচএস/এসএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]