শখের ‘বাবু’ নিয়ে বিপাকে জাহাঙ্গীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৮ পিএম, ২০ জুলাই ২০২১

তিন বছর ধরে পরম যত্নে একটি গরু লালন-পালন করেছেন রাজবাড়ীর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। সাদা রঙের গরুটির নাম শখ করে রেখেছেন ‘বাবু’।

শখের ‘বাবু’কে বিক্রি করতে রাজধানীর আফতাবনগর হাটে নিয়ে এসেছেন জাহাঙ্গীর। গত রোববার হাটে আনার পর একজন গরুটির দাম ৩ লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু আরও বেশি দামে বিক্রির আশায় ওই দামে বিক্রি করতে রাজি হননি জাহাঙ্গীর। এখন ‘বাবু’কে নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন এই ব্যবসায়ী। গরুটি বিক্রি করতে ক্রেতা পাচ্ছেন না। যারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন তারা অনেক কম দাম বলছেন।

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এটা আমাদের পোষা গরু। তিন বছর ধরে অনেক যত্নে লালন-পালন করেছি। শখ করে নাম রেখেছি ‘বাবু’। প্রতিদিন সকালে আধা কেজি ছোলা খেতে দিই। দিনে এই গরুটির খাবারের পিছনে ৪০০ টাকা খরচ হয়। হাটে আনার পর একজন গরুটির দাম ৩ লাখ টাকা বলেছিলেন। আরও বেশি দাম পাব এই আশায় সে সময় বিক্রি করেনি। এখন তো দেখছি ধরে রেখেই ভুল করছি। আজ দুজন দুই লাখ টাকা দাম বলেছে। তিন বছরে এই গরুর পেছনে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এই দামে কিভাবে গরু বিক্রি করি?’

jagonews24

তিনি আরও বলেন, ‘কেটে বিক্রি করলেও এই গরুটি থেকে কমপক্ষে ১৮ মণ মাংস পাওয়া যাবে। এক কেজি মাংসের দাম ৫০০ টাকা হলেও, মাংস বিক্রি করা যাবে সাড়ে ৩ লাখ টাকার ওপরে। তাহলে দুই লাখ টাকায় কিভাবে বিক্রি করব।’

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আজ রাত পর্যন্ত আছি দেখা যাক কি হয়। যদি বিক্রি করতে না পারি বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাব। তাই বলে এতো লোকসান দিয়ে বিক্রি করা যায় না। আমার গরুর ফিড খাওয়ানো না। তাই আল্লাহর রহমতে হুট করে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনাও কম। কোরবানির হাটে বিক্রি করতে না পারলে পরে মাংস বিক্রি করব।’

তিনি বলেন, ‘গত বছর এমন গরু ৫ লাখ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে। করোনার কারণে এবার বড় গরুর চাহিদা খুব কম। ছোট গরু মোটামুটি বিক্রি হচ্ছে।’

এমএএস/জেডএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]