লোকসানেই বড় গরু ছাড়ছেন ব্যাপারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩৭ পিএম, ২০ জুলাই ২০২১

প্রচুর গরুর তুলনায় ক্রেতা কম থাকায় শেষ দিনে নেমেছে গরুর দাম। শেষ মুহূর্তে লোকসানে গরু বিক্রি করে ব্যাপারীরা বাড়ির পথ ধরছেন। তারা বলছেন, গতবার লাভ হলেও চলতি বছর লোকসানের মুখ দেখতে হচ্ছে। এবার অনলাইনে গরু বিক্রি বাড়ায় এমন দশা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। অন্যদিকে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা থাকায় বড় গরুর কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না তারা।

মঙ্গলবার (২০ জুলাই) গাবতলী গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, কিছুক্ষণ পর পর হাটে আসছে গরুবাহী ট্রাক। সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর আগেভাগে বেশি গরু বিক্রি হওয়ায় হাটে নেই পর্যাপ্ত ক্রেতা। ব্যাপারীরা বলছেন, দাম পড়ে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে লাভ না করেই গরু ছাড়ছেন তারা।

cow6.jpg

আটদিন আগে মাঝারি আকারের ১২টি গরু এনেছিলেন শুভ নামের এক ব্যাপারী। কেরানীগঞ্জের এই ব্যাপারী জানান, প্রথম তিন-চারটা গরুর ভালো দাম পেলেও বাকিগুলোতে কম দাম বলছেন ক্রেতারা।

তিনি বলেন, আমার গরুগুলো ৭০ থেকে ৮০ হাজার হলেই ছেড়ে দিচ্ছি। কিন্তু এখন ৫০-৫৫ এর ওপর কেউ বলছে না। গত রোববার পর্যন্ত দাম ভালো বলেছে। অনেকগুলা গরু লোকসানে বিক্রি করেছি। এখনও ছয়টা গরু আছে।

cow6.jpg

গতকাল মানিকগঞ্জ থেকে পাঁচটা গরু এনেছেন জয়নাল আবেদিন। এর মধ্যে তিনটি গরু বিক্রি করে ২০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে বলে জানান তিনি। জয়নাল বলেন, গতকালের চেয়ে আজ দাম আরও কম বলছে, কিন্তু কী করার গরু বিক্রি করেই যেতে হবে।

বড় গরু নিয়ে বিপাকে ব্যাপারীরা

ব্যাপারীরা বলছেন, বাজারে মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি। ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় মাঝারি মানের গরু মিলছে। তবে বেশি দামের গরুর ক্রেতা একদম কম। বড় গরুতে ৭০-৮০ হাজার টাকা দাম কম বলা হচ্ছে।

নাটোর থেকে ‘রাজা’ ও ‘বাদশা’ নামে দুটি গরু নিয়ে গত রোববার হাটে এসেছেন সানোয়ার নামে এক ব্যাপারী। প্রথমে দুই গরু সাড়ে সাত লাখ টাকা দাম চাইলেও এখন ছয় লাখ টাকা হলেই ছেড়ে দিতে চান তিনি।

cow6.jpg

সানোয়ার বলেন, গরুগুলোতে ১৫ মণের বেশি মাংস আছে। কিন্তু কেউই দুই লাখের ওপর বেশি দাম বলছেন না। এগুলার পেছনে প্রতিদিন ২০০ টাকা খরচ আছে। দুই লাখ ৯০ এর নিচে ছাড়ব না।

বেসরকারি চাকরিজীবী মোহাম্মদ লাভলু বলেন, সকাল ৯টায় এসেছি। ৪০-৫০টা গরু দেখেছি। পরে এক লাখ টাকা দিয়ে গরু নিলাম।

তিনি বলেন, আমরা খাপ খাইয়ে উঠতে পারছি না। লকডাউনের মধ্যে কোরবানি দিতে হচ্ছে। দাম অন্যদিনের তুলনায় কম। তবে ছোট ও মাঝারি মানের গরুর দাম একটু বেশি। ছেলের আবদারে এবার বড় গরু কিনতে হলো।

jagonews24

শনিবার সিরাজগঞ্জ থেকে ৫০টা গরু এনেছিলেন মো. হামিদ। গত দুদিনে গরু বিক্রি করে লাভবান হওয়ার আশা থাকলেও আজ সকাল থেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। আজ প্রচুর গরু। রাস্তায়ও গরু বেচাকেনা চলছে। রোববার যে গরুর জন্য ক্রেতারা ৫০ হাজার টাকা দাম বলেছিলেন আজ একই গরুর জন্য ১০-১৫ হাজার টাকা কম দাম চাচ্ছেন। হাটে অনেক গরু থাকায় ক্রেতারা অনেক বেশি দরদাম করছেন। এই বছরও লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।

কাদায় জবুথবু গাবতলী, স্বাস্থ্যবিধি শিকেয়

সামান্য বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে পুরো হাট। হাট সংলগ্ন রাস্তায় কাদার মধ্যেও গরু বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। এছাড়া কাদায় সয়লাব হয়ে উঠেছে পুরো হাট।

jagonews24

কাদার মোটাস্তরে ক্রেতাদের পিছলে পড়া, গাড়ি আটকে থাকার দৃশ্য চোখে পড়েছে। ক্ষোভ ছেড়ে গরু কিনতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আমিনুল বলেন, জামা-কাপড় তো শেষ। একদিকে গাড়ি আসছে, আরেকদিকে গরু। কিন্তু রাস্তায় গরু, আমরা হাঁটব কীভাবে। প্রতিবছর গাবতলীতে এই সমস্যা দেখা যায়।

এদিকে অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রতার মুখেই ছিল না মাস্ক। কারও মাস্ক ছিল থুঁতনিতে। বিক্রেতারা বলছেন, মাস্ক পরে কথা বোঝা যায় না।

এসএম/বিএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]