এই চামড়ার ১২টা বাজাইল কে : ব্যারিস্টার সুমন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩৪ পিএম, ২১ জুলাই ২০২১

কোরবানির গরুর একটি চামড়ার দাম সর্বোচ্চ ৫০ টাকা দিতে চাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। তাই প্রশ্ন তুলে যুবলীগের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক ও ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেছেন, ‘এই চামড়ার ১২টা বাজাইল কে?’

কোরবানি শেষে চামড়া বিক্রি করার সময় বুধবার (২১ জুলাই) ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এ প্রশ্ন করেন।

কোরবানির চামড়া সামনে নিয়ে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘ঈদের দিনে চাইনি কোনো সমস্যা নিয়ে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে। তারপরেও না বলে থাকতে পারলাম না। আপনারা দেখছেন যে আমার সামনে একটি চামড়া আছে। এটা একটি কোরবানির গরুর চামড়া। চামড়াটি যখন কিনতে এসেছেন একজন লোক, তখন আমি আমার কষ্টটা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার না করে থাকতে পারলাম না।’

তিনি বলেন, ‘এই চামড়া আমার বাবার আমলে ৮০০-৯০০ এমনকি এক হাজার টাকায় বিক্রি করেছে।’

একজন লোককে দেখিয়ে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘উনি এসেছেন আমার কাছ থেকে চামড়া নিতে। উনারে বললাম যে, কত টাকা দেবেন। চামড়ার টাকা আমরা সাধারণত গরিবদের দেই, অথবা মাদরাসায় দিয়ে দেই। উনাকে বললাম যে কত টাকা? উনি বললেন, মাগনা দেবেন কি-না, দিলে নিতে পারি, আর না হলে ৫০ টাকা দিতে পারি। চামড়ার দাম উনি আমাকে সর্বোচ্চ ৫৯ টাকা দিতে চান।’

সুমন বলেন, ‘যে মাদরাসাগুলো চামড়া দিয়ে চলত। এই মাদরাসাগুলো এখন চামড়া নেয় না।’ এ পর্যায়ে মাদরাসা সংশ্লিষ্ট একজনের কাছে চামড়ার বিষয়ে জানতে চান সুমন।

তখন ওই লোক বলেন, ‘আগে যে চামড়া সংরক্ষণ করা হতো ওই চামড়ার টাকা দিয়ে মাদরাসার বোর্ডিংয়ে থাকা ছাত্রদের এক বছরের খানা হতো। একটা চামড়া ৫০ টাকা দিয়ে কিনে লবণ দিয়ে এক সপ্তাহ রাখলেও মিনিমাম ২০০ টাকা খরচ হয়। পরে আবার ঢাকা থেকে লোক আসলে একশ টাকা দাম হয়। ফুল লসে আছে মাদরাসা।’

এ পর্যায়ে এসে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘চামড়ার টাকা দিয়ে মাদরাসার ছাত্রদের খাওয়া-দাওয়া হতো। এখন তো খাওয়া-দাওয়া শেষ। এতিম বাচ্চাদের অবস্থান হয়ে গেল... কারণ পুরো দেশই তো এখন এতিমের মতো আছে।’

পাশে অটোতে রাখা চামড়া দেখিয়ে সুমন বলেন, ‘এসব চামড়া একদম ফ্রি। কোনো চামড়ার দাম নাই। আগে যে চামড়া এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা বিক্রি হতো, কী কারণে এই চামড়া, আমি জানতে চাই এই চামড়া শিল্পের ১২টা বাজাচ্ছে কারা? নিশ্চয়ই কোনো না কোনো দুই নম্বরি আছে।’

তিনি বলেন, ‘চামড়া শিল্পের বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে এটা জানি গরিবের হক ছিল। মানুষের দানের টাকায় গরিব ছাত্ররা চলতো, অথবা এই চামড়ার টাকা আমরা সব সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়ে গরিবদের বণ্টন করে দিতাম। আমি সারা জীবনই দেখছি বাবা-মায়েরা চামড়ার টাকা গরিবদের দিতেন।’

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘নেতৃবৃন্দ যারা আছেন, যারা কোরবানি দিচ্ছেন তাদের বলব, বিশেষ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বলব, যে শুধু ঈদের দিন কোরবানি না দিয়া নিজেদের স্বার্থ একটু কোরবানি দেন অন্যান্য সময়। তা হলে হয়তো সাধারণ নির্যাতিত মানুষরা চামড়া দিয়ে কিছু করতে পারবে। বিশেষ করে অনেক ছাত্র, যাদের চলার ব্যবস্থা হয় চামড়ার টাকার মাধ্যমে।’

এফএইচ/জেডএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]