পোস্তায় লবণের জন্য হাহাকার!

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:২৯ এএম, ২২ জুলাই ২০২১ | আপডেট: ০১:০৩ পিএম, ২২ জুলাই ২০২১

‘কী রে লবণ পাইছস? কত চায়?’ লালবাগের পোস্তার আমানউল্লাহ ব্রাদার্স নামক চামড়ার আড়তদার হাজী আমানউল্লাহ উঁচুগলায় একজন শ্রমিককে এ প্রশ্ন করছিলেন। প্রশ্নের জবাবে কর্মচারী বলেন, ‘সব লবণের দোকানে ঘুরছি। স্টকের লবণ নাকি শেষ। এক দোকানে আছে তয় ৬৭০ টাকার লবণের বস্তা (৭২ কেজি) প্রথমে এক হাজার ৩০০ টকা চাইছে, পরে একদাম এক হাজার ২০০ টাকা কইয়া দিছে।’

এ কথা শুনে হাজী আমানউল্লাহ বলেন, ‘কী হীরক রাজার দেশরে বাবা, সিন্ডিকেট কইরা একদিনে লবণের দাম দ্বিগুণ, তাও বাজার আউট। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং নাই। আড়তে ৭০০ পিস চামড়া পড়ে আছে। এখনও লবণ দেয়া হয় নাই। লবণ না দিলে চামড়া পইচ্যা যাইবো, আর এতদামে লবণ কিনলে পরতা পড়ব না। কী বিপদেই না পড়লাম?’

chamra01

পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিন আজ বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সরেজমিনে পোস্তার চামড়ার পাইকারি আড়তদার ও শ্রমিকের মধ্যে এ কথোপকথন শোনা যায়।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে হাজী আমানউল্লাহ বলেন, পোস্তার আড়তে আড়তে লবণের জন্য হাহাকার চলছে। একরাতের ব্যবধানে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী লবণের দাম প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলেছে। ফলে অনেক আড়তদার চামড়ায় লবণ দিতে পারছে না। দু-চার ঘণ্টার মধ্যে লবণ দিতে না পারলে মাল নষ্ট হয়ে যাবে। ট্যানারি মালিকদের কাছে মাল বিক্রিই করা যাবে না।

chamra01

তিনি জানান, গতকাল বিকেল থেকে রাত ৮টা/৯টা পর্যন্ত চামড়ার বাজার আগের বছরগুলোর চেয়ে চামড়ার আমদানি বেশ ভালো ছিল। সরকার নির্ধারিত দামে তারাও গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় (লবণ ছাড়া) মাল কিনেছেন। কিন্তু রাত ৯টার পর থেকে লবণের সংকট দেখা দেয়। তাছাড়া কেনা চামড়ায় লবণ লাগানোর জন্য অভিজ্ঞ লোকজনের অভাবের কারণেও চামড়া লবণ লাগানো যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, পশু জবাইয়ের চার থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে লবণ লাগালে চামড়া ভালো থাকে। কিন্তু অনেক মাল ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর এসেছে।

chamra01

সরেজমিনে দেখা গেছে, অন্যান্য বছর সকাল বেলা শত শত শ্রমিক চামড়া নামানোসহ লবণ লাগানোর কাজে ব্যস্ত থাকলেও আজ শ্রমিকদের অনেকে অলস বসে আছেন। লবণ সংকটের কারণে গতকালের চামড়া আড়তদাররা কিনতে চাইছেন না। বিশেষ করে যারা লবণছাড়া চামড়া ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করেন তারা ঝুঁকি হতে পারে এ আশঙ্কায় গতকালের চামড়া কেনার সাহসই করছেন না। তবে কোনো কোনো আড়তে শ্রমিকদের বিলম্বে কেনা চামড়ায় লবণ লাগাতে দেখা গেছে।

দিলদার হোসেন নামে একজন ব্যবসায়ী বলেন, এ বছর চামড়ার বাজার গতবছরের চেয়ে ভালো গেছে। যে চামড়া গতবছর ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে সে চামড়া এবার ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এমইউ/বিএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]