পোস্তায় ‘কৃত্রিম যানজটে’ পুঁজি হারানোর শঙ্কায় চামড়া ব্যবসায়ীরা

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:১৩ পিএম, ২২ জুলাই ২০২১ | আপডেট: ০৪:৫৯ পিএম, ২২ জুলাই ২০২১

রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগের পোস্তায় চামড়াভর্তি একটি মিনিট্রাক সকাল থেকে মালামাল বিক্রির জন্য আড়তে আড়তে ঘুরছেন একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী। যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানকার আড়তদাররা মালের কোনো দরদাম না বলে সরাসরি ট্যানারি মালিকদের কাছে গিয়ে মালগুলো দ্রুত বিক্রির পরামর্শ দিচ্ছিলেন।

তারা বলছিলেন, বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কেনা কাঁচা চামড়ায় লবণ লাগানো ছাড়া নিয়ে আসায় মালগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পোস্তায় হঠাৎ করে লবণের সংকট দেখা দেয়ায় তারা মালগুলো রাখতে পারবেন না।

সেলিম নামে একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি ঢাকার বাইরে থেকে ১৫ লাখ টাকায় আড়াই হাজার পিস চামড়া কিনে এনেছি। কিন্তু চামড়াগুলো বিক্রি করতে পারছি না। লবণ সংকটের কথা বলে কেউ দামই বলছে না।’

chamra-1.jpg

শুধু সেলিম হোসেন একা নন, তার মতো অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) সকালে পোস্তায় চামড়া নিয়ে এসে বিক্রি করতে পারছেন না। আড়তে আড়তে ঘুরলেও আড়তদাররা চামড়ার দামই বলছেন না। ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে পোস্তার চামড়ার আড়তদারদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে সার্বিকভাবে এবার চামড়ার বাজার নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। বুধবার ঈদের দিন বিকেল থেকে রাত ৮টার মধ্যে তারা ভাল দামে চামড়া কিনেছেন। কেনা চামড়ায় লবণ লাগিয়ে ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করছেন।

chamra-1.jpg

দিলদার হোসেন সেন্টু নামের একজন চামড়ার আড়তদার জানান, তিনি দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবসা করছেন। গত বছরের চেয়ে এবার ভাল ব্যবসা হয়েছে। গতবছর কাঁচা চামড়া ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার ৬০০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়ার ভাল দাম পাচ্ছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে সেন্টু জানান, দাম ঠিকই পাচ্ছে। অনেকে চামড়া নিয়ে আসতে দেরি করেছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অধিকাংশেরই চামড়ার ব্যবসা সম্পর্কে ভাল ধারণা নেই। তারা সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চামড়া নিয়ে আসে না। কোন চামড়া কত টাকা ফুটে কিনতে হবে, তা না জেনে গড়দামে কিনে নিয়ে আসে।

chamra-1.jpg

কামাল হোসেন নামের একজন জানান, তিনি রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে ২৬০ পিস চামড়া নিয়ে গতরাত ১০টায় লালবাগে আসেন। পোস্তায় ব্যাপক যানজটের কারণে আড়তদারের কাছে পৌঁছাতে সকাল ৭টা বেজে যায়। এ কারণে চামড়ার যে দাম পাবেন আশা করেছিলেন তা পাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন আড়তদার বলেন, ‘পোস্তায় একটি চক্র রাতের বেলায় ট্রাকের যানজট লাগিয়ে সিন্ডিকেট ব্যবসার সুযোগ তৈরি করে। তারা ট্রাক সিরিয়ালি না এনে গায়ের জোরে কিছু কিছু ট্রাক বিভিন্ন রাস্তার মুখে রেখে পথ আটকে রাখে। ফলে মালগুলো নামতে বিলম্ব হয়।’

chamra-1.jpg

তিনি জানান, পশুর চামড়া সময়মতো লবণজাত করা না গেলে পচে যায়। তিনি তার সামনে রাখা একটি চামড়া চিমটি দিয়ে তুলে দেখান, এই যে চামড়ার পশম টান দিলেই উঠে যায় সেটার এক টাকারও দাম নেই। বিলম্বের কারণে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা জানান। তবে সার্বিকভাবে পোস্তার আড়তদাররা এবার চামড়া কেনাবেচা করে সন্তুষ্ট বলে ব্যবসায়ীরা স্বীকার করেন।

এমইউ/এএএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]