৫ দিনে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পায়নি গাবতলীর ভিজিল্যান্স টিম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪২ পিএম, ২২ জুলাই ২০২১

নিরাপদ ঈদ নিশ্চিত করতে যাত্রী ও বাসচালকদের সচেতন করা এবং যাত্রী হয়রানির অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য গাবতলী বাস টার্মিনালে আছে বিআরটিএ, পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও বাস মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত ভিজিল্যান্স টিম। তবে গাবতলী ঘুরে দেখা গেছে, শুধু চেয়ার টেবিল বিছিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে তারা। গত পাঁচ দিনে যাত্রী হয়রানির কোনো অভিযোগ পায়নি এই টিম। এমনকী যাত্রী বা বাস সংশ্লিষ্টরা তাদের বিষয়ে জানেনও না।

বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) দুপুরে বাস টার্মিনালের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, তিন-চারটি চেয়ার ও একটি বড় টেবিলের পেছনে ভিজিল্যান্স টিমের ব্যানার। দুপুর ১টার দিকে সেখানে বসেছিলেন যাত্রীদের কয়েকজন। ৪৫ মিনিট পরে সেখানে আসেন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) উচ্চমান সহকারী মোহাম্মদ আবু হানিফ।

jagonews24

তিনি নামাজে ছিলেন বলে জানিয়ে ভিজিল্যান্স টিমের কার্যক্রম সম্পর্কে জাগো নিউজকে বলেন, ‘যাত্রী, চালক, হেলপার সবাইকে সতর্ক করার জন্য আমরা এখানে বসেছি। যাত্রী মাস্ক পরবে, অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে কেউ যেন বাসে না ওঠে, বিপদ থেকে রক্ষা করতে, সবাইকে সচেতন করতে গত ১৮ তারিখ থেকে আমরা এখানে বসেছি।’

প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে এই টিম গাবতলী টার্মিনালে বসে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদের সময় মানুষজন যখন বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় তখনই আমরা বসি।’

jagonews24

আবু হানিফ আরও বলেন, ‘বড় কোনো উৎসবে যাত্রীরা হিতাহিতজ্ঞান হারিয়ে ফেলে। যেকোনোভাবেই তারা বাসে উঠতে চায়। চালকদের মধ্যেও প্রতিযোগিতা থাকে। কার আগে কে যাবে, রাস্তায় একজন মারা যাবে কি-না, গাড়ির ফিটনেস আছে কি-না, ড্রাইভার সুস্থ আছে কি-না, যাত্রী সঠিক আছে কি-না, এইসব নিয়ে সবাইকে সচেতন করা। এইখানে বিআরটিএ, পুলিশ, সিটি করপোরেশন, বাস মালিক সবাই আছে।’

তবে ভিজিল্যান্স টিমের কার্যক্রম সম্পর্কে যাত্রীদের কাছে জানতে চাইলে তারা কিছু বলতে পারেননি। এজন্য ভাড়া বেশি ও যাত্রী হয়রানির অভিযোগও তারা কোথাও জানাতে পারেননি।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী রাসেল বলেন, ‘সাতক্ষীরার টিকিটে ৩০০ টাকা বেশি নিছে। অন্য সময় ৫০০ টাকা থাকলেও এখন ৮০০ টাকা নিছে।’

jagonews24

ভিজিল্যান্স টিমের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে অভিযোগ করে বলেন, ‘ঈদের সময় বেশি নেয়। যাত্রাবাড়ি থেকে গাবতলী ৮০ টাকা করে নিছে।’

এছাড়া বিভিন্ন বাসের কাউন্টারে জানতে চাইলে কাউন্টার মাস্টাররা জানান, তারাও খুব বেশি কিছু জানেন না ভিজিল্যান্স টিমের কার্যক্রম সম্পর্কে। গাবতলী ঘুরে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ও কিংবা বেশি ভাড়া বন্ধে কোনো কার্যক্রমও চোখে পড়েনি তাদের।

পরিবার নিয়ে কুষ্টিয়া গেছেন রং মিস্ত্রী লাল্টু। তিনিও শোনেননি এই টিমের নাম। তিনি বলেন, ‘ভাড়া তো প্রতিবারই বেশি নেয়, কার কাছে বিচার দেবো। আমাদের যা কিছু আছে, ঈদের আগে জমানো টাকা নিয়ে বাসায় যাচ্ছি।’

jagonews24

জানতে চাইলে আবু হানিফ বলেন, ‘যাত্রীরা মাঝে মাঝে অভিযোগ করে। আমার যেটা অবজারভেশন সেটা হলো- যাত্রীরা বেশি ভাড়া দিয়েও যদি স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে তবে তাদের কোনো অভিযোগ থাকে না। কিন্তু ৩০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকায় টিকিট কাটল তারপরেও দেখা গেল সারাদিনে বাস নাই; তখন যাত্রীরা কৈফিয়ত চায়। তারা জানে ঢাকা থেকে ঈদের সময় ছেড়ে যাওয়া গাড়িটা ফাঁকা আসবে। বাস মালিকদের তো তেল খরচ আছে, স্টাফ খরচ আছে। এজন্য বাসগুলো ঢাকা ছাড়ার আগে বেশি ভাড়া নেয়। এইটা যাত্রীরা জানে, মালিক সমিতিও জানে, সরকারও জানে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা থাকে সবকিছু সীমার মধ্যে রাখার। ৩০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা হয়, ১ হাজার যেন না হয়। স্বাস্থ্যবিধি মানতে আমরা যাত্রীদের বলছি। ড্রাইভারকে বলছি, কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনছে না। তখন মালিক সমিতিকে বলেছি। যাদের গাড়ি, তাদের বলি বা চিঠি দেই। একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

সবশেষ তিনি বলেন, ‘এবার আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে আমাদের মোবাইল কোর্ট মাঠে আছে। তারা জরিমানা করছে।’

এসএম/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]