ঈদযাত্রার কারণে সংক্রমণ বাড়বে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩২ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২১
ফাইল ছবি

ঈদুল আজহায় মানুষের চলাচলের কারণে করোনা সংক্রমণ কিছুটা বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

শনিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ‘কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধ, অক্সিজেন সঙ্কট, হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা ও শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি’ শীর্ষক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) সভাপতি এম এ মুবিন খান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদে গরুর হাটে মানুষের যাতায়াত, দোকানপাটে যাওয়া-আসার ফলে নিশ্চয়ই সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেটা আমরা আগামীতে দেখতে পাব। এবং সরকার চেষ্টা করেছে, জরিমানা করেছে, জেলে ঢুকিয়েছে স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে তারপরও মানুষ মানেনি। তারা বেপরোয়াভাবে ঘুরে বেড়িয়েছে। মানুষের দেশে যাওয়া আসার মতো মুভমেন্টের কারণে সংক্রমণ কিছুটা বাড়বে, এটা আমরা আশঙ্কা করি। এখন গাড়ি চলাচলসহ সবকিছু বন্ধ, তারপরও মানুষকে দেখি হেটে চলে আসছে, এটা একটা আশ্চর্যজনক বিষয়।’

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ এখনও স্বাস্থ্যবিধি মানতে চায় না, এখনও মাস্ক পরতে চায় না, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে চায় না এবং বেপরোয়াভাবে ঘুরে বেড়ায়। করোনাভাইরাস ঠেকাতে হলে মাস্ক পরা প্রয়োজন। আমি মনে করি সব মানুষই এটা জানে। কিন্তু কেন জানি আমরা মানতে চাই না, যার ফলে আমরা আক্রান্ত হচ্ছি।’

জাহিদ মালেক আরও বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ বাড়ার আরেকটি কারণ হলো ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণের ক্ষমতা অনেক বেশি। এটা ভারত থেকে আমরা পেয়েছি। ভারতের যে জনগণ এবং আমাদের জনগণ কিন্তু একই ধরনের। তারাও গ্রামগঞ্জে আক্রান্ত হয়েছে। সে কারণে আমাদেরও গ্রামে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সে তুলনায় শহরে আক্রান্ত কম। গতবার যখন করোনা বেড়েছিল তখন আমরা ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্য থেকে পেয়েছি। তখন শহরে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি ছিল, গ্রামে আক্রান্ত কম ছিল। এটা আমার অবজারবেশন। ভারতের এই ভাইরাসটা নামতে তিন মাস লেগেছে। আমাদের দেশেও আমি মনে করি এরকমই একটা সময় লাগার সম্ভাবনা রয়েছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের হাতে এখনও ১ কোটির বেশি ভ্যাকসিন আছে। আগামী তিন-চারদিনের মধ্যে আরও ৩০ লাখ ভ্যাকসিন হাতে আসবে। আগস্টে আরও ৬০ লাখ ফাইজারের ভ্যাকসিন আসবে। সব মিলিয়ে প্রায় দুই কোটি ভ্যাকসিন আমাদের হাতে থাকবে। এতো সেবার দেয়ার পরও আমাদের দেশে চেষ্টা করা হয় স্বাস্থ্য বিভাগকে কীভাবে খাটো করে দেখানো যায়, কোথাও এটা হয়নি। আর একটা রাষ্ট্রেরও উদাহরণ দেখাতে পারবেন না যেখানে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের লোকদের অপমানিত করেছে বা অন্যায়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি আমাদের দেশে সেটি হচ্ছে। অন্যান্য দেশে সালাম করেছে, স্যালুট জানিয়েছে যে তারা নিজেকে, পরিবারকে ঝুঁকিতে ফেলে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।’

 

আইএইচআর/জেডএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]