গাড়িতে ‘ইমারজেন্সি রোগী’ লিখে ঘোরাঘুরি, জরিমানা ৩ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:২৪ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২১

সরকারঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের সপ্তম দিনে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে সকাল থেকে চলছিল পুলিশের কড়া চেকপোস্ট। চেকপোস্টে একটি হাইস গাড়িতে লেখা ‘ইমারজেন্সি রোগী’। তবে ইমারজেন্সি রোগী লেখা থাকলেও গাড়িতে ছিল না কোনো রোগী। পরে গাড়ি নিয়ে বিনা কারণে বাইরে ঘোরাঘুরি করার কারণে পুলিশ তিন হাজার টাকার মামলা দেয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে শাহবাগ মোড়ে পুলিশের চেকপোস্টে সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ গাড়ির সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে মানুষের চলাচল।

শাহবাগ জোনের সার্জেন্ট রেজাউল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত চেকপোস্টে দেখা যায়, রিকশা, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত যানবাহনে যারা যাতায়াত করছে তাদের প্রত্যককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং সদুত্তর না পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সার্জেন্ট রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘একটি হাইস গাড়িতে লেখা ‘ইমারজেন্সি রোগী’। কিন্তু গাড়িতে ছিল না কোনো রোগ। বিনা কারণে গাড়ি নিয়ে বাইরে ঘোরঘুরির জন্য তিন হাজার টাকা মামলা দেয়া হয়। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত চারটি গাড়ি রেকারে দেয়া হয়েছে, মামলা হয়েছে ৫টি গাড়ির বিরুদ্ধে। চারটি গাড়ি রেকারে জরিমানা করা হয় ৬ হাজার টাকা এবং ৫টি মামলায় জরিমানা করা হয় ১৫ হাজার টাকা।’

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি সড়কে মানুষের উপস্থিতি থাকলেও প্রধান সড়কসহ অলিগলিতে নিত্যপণ্য ও ওষুধের দোকান ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের দোকান বন্ধ রয়েছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ সড়কে প্রাইভেটকার, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ভ্যান, রিকশা, সিএনজি আর ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল বেশি দেখা গেছে।

jagonews24

রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী জিসান আহমদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘জরুরি সেবার আওতায় থাকায় আমাদের অফিস খোলা। তাই বিধিনিষেধ চললেও আমাদের বের হতেই হচ্ছে। শুরুরদিকে সড়কে তেমন মানুষ বের হয়নি। কিন্তু সড়কে মানুষের সরব উপস্থিতি রয়েছে। দিন যত যাচ্ছে, বাইরে মানুষের সংখ্যা ততই বাড়ছে।’

এদিকে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ নিশ্চিতে বুধবার ষষ্ঠদিনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাইরে বের হয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) হাতে গ্রেফতার হন ৫৬২ জন। আর ২০৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয় এক লাখ ৬১ হাজার ৩০০ টাকা। এ ছাড়া ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক ৪৯৭টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলায় জরিমানা করা হয় ১১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। ছয়দিনে রাজধানীতে মোট গ্রেফতার হযেছেন তিন হাজার ৫৬ জন।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় গত শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার।

টিটি/ইএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]