‘সরকার তো অর্ডার দিয়াই খালাস, আমাগো কথা ভাবল না’

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:৪৪ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২১

‘সরকার তো অর্ডার দিয়াই খালাস। আমাগো মতো ক্ষুদ্র শ্রমিকদের আসতে পথে দুর্ভোগের কথা একটুও ভাবল না। চার-পাঁচ গুণ বেশি ভাড়া দিয়া আসতে হইল। পথে খাবার হোটেল খোলা নাই। ক্ষুধায় মাথা ঘুরাচ্ছে। কোথাও গণপরিবহন চলছে না। কখন সাভারের বাসায় পৌঁছাইতে পারব তা আল্লাহই জানেন। শরীর আর কুলায় না।’

গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসে কাজ করা শরিফা খাতুন এভাবে তার ক্ষোভ ও কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন। শনিবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বাবুবাজার ব্রিজ পেরিয়ে ঢাকার প্রবেশ পথে তার সঙ্গে কথা হয়।

jagonews24

শরিফা খাতুন বলেন, ‘ফরিদপুর থেকে এ পর্যন্ত আসতে কখনও অটোরিকশা, কখনও মোটরসাইকেল কখনওবা মাইলের পর মাইল হেঁটে আসতে হয়েছে। সরকারের তো উচিত ছিল গার্মেন্টস খোলার ঘোষণা দেয়ার আগে বাস ও লঞ্চ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দু-একদিনের জন্য খুলে দেয়া। আমরা তো গার্মেন্টস শ্রমিক, যে কোনোভাবে আগামীকাল (১ আগস্ট) হাজিরা দিতে হবে। বাপরে বাপ, ফেরিতে কি যে ভিড়, ওঠতে গেলে জান আর জান থাকে না।’

শুধু শরিফা খাতুনই নন, তার মতো এমন দুর্ভোগের শিকার হয়ে রাজধানী ও এর আশেপাশের এলাকায় আসছেন হাজার হাজার পোশাকশ্রমিক।

jagonews24

এদিন পুরান ঢাকার বাবুবাজারের প্রবেশ পথে দেখা যায়, এখানে সকাল থেকে ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, বরিশাল ও খুলনার বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ঢাকাফেরত হাজার হাজার মানুষের ঢল।

জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, ঢাকায় পৌঁছতে তাদের নিদারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কেউ অটোরিকশা, কেউ মোটরসাইকেলে কেউ ভ্যানে আবার কেউবা হেঁটে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন।

স্বল্প আয়ের এ মানুষগুলো জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর বিভিন্ন গার্মেন্টস থেকে তাদের মোবাইলে জানানো হয়, ১ আগস্ট থেকে গার্মেন্টস খুলছে। তারা দ্রুত ঢাকায় আসার নির্দেশনা পান।

jagonews24

সাভারের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করা আফসারউদ্দিন বলেন, ‘এ লকডাউন দেয়ার চেয়ে কারফিউ দেয়া ভালো। আজ পথে হাজার হাজার মানুষের সংস্পর্শে এসে করোনায় আক্রান্ত হই কি-না তা নিয়ে ভাবনায় আছি।’

বরিশাল থেকে এসেছেন রাজধানীর মালিবাগের বাসিন্দা এক গার্মেন্ট কর্মী দম্পতি। তারা বলেন, ‘পথে দুর্ভোগের শেষ নাই। বরিশাল থেকে গৌরনদী, সেখান থেকে মাদারীপুর, মাদারীপুর থেকে মাওয়া ঘাট। দুজনের ১ হাজার ৮০০ টাকা খরচ হয়েছে।’

এ সময় এ দম্পতি দুঃখ করে বলেন, ‘শরমের কথা কি কমু, বাসায় যাওয়ার রিকশা ভাড়াও এখন হাতে নাই।’

এমইউ/জেডএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]