‘ফোনে বলেছে, কাজে যোগ না দিলে চাকরি থাকবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০৪ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২১

কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে রোববার (১ আগস্ট) থেকে খুলছে গার্মেন্টসসহ রফতানিমুখী শিল্পকারখানা। এ অবস্থায় ঢাকামুখী ঢল নেমেছে শ্রমিকদের। এর মধ্যে অধিকাংশ শ্রমিক বলছেন, গার্মেন্টস খোলার দিন কাজে যোগ না দিলে তাদের চাকরি থাকবে না। তাই তারা চরম ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে কর্মস্থলে যোগ দিতে বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় ফিরছেন। বাস না চলায় তাদের গুনতে হচ্ছে ৪-৫ গুণ বেশি ভাড়া। কষ্ট তো রয়েছেই।

শনিবার (৩১ জুলাই) ঢাকার অন্যতম প্রবেশপথ বাবুবাজার ব্রিজে গেলে দেখা যায়, এখান দিয়ে হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করছেন। কেউও হেঁটে আবার কেউ রিকশায় ঢাকায় প্রবেশ করছেন। এদের অধিকাংশই গার্মেন্টস শ্রমিক। তারা বলছেন, যেহেতু গার্মেন্টস খুলে দেয়া হয়েছে তাই বাস বা লঞ্চ চালু করলে এতো ভোগান্তির শিকার হতে হতো না।

jagonews24

এ সময় বাবুবাজার ব্রিজে দেখা হয় জামান উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি শরীয়তপুর থেকে সকাল ৬টায় রওয়ানা দেন। বিকেল ৪টার দিকে বাবুবাজার ব্রিজে তার সঙ্গে কথা হয়।

তিনি বলেন, ‘সকাল ৬টায় শরীয়তপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। অনেক কষ্টে ফেরি পার হয়েছি। বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত আসতে আমার খরচ হয়েছে এক হাজার টাকা। যেখানে বাস ও লঞ্চ চালু থাকলে আমার খরচ হতো তিনশ টাকা। আমি যাব উত্তরায়। সেখানে এটি গার্মেন্টসে চাকরি করি। গার্মেন্টস থেকে ফোন করে বলে দিয়েছে রোববার কাজে যোগ না দিলে চাকরি থাকবে না। তাই কোনো উপায় না পেয়ে ঢাকায় আসছি। উত্তরায় যেতে কত সময় লাগবে আল্লাহ জানে।’

jagonews24

মাদারীপুর থেকে গাজীপুরের যাওয়ার জন্য শনিবার ভোরে রওনা দিয়েছেন সাহেদা বেগম। সঙ্গে তার দুই বছরের একটি শিশুকন্যা। হেঁটে বাবুবাজার ব্রিজ পার হতে দেখা যায়।

তার সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করি। ঈদের আগে বাসায় গিয়েছি। হঠাৎ কাল ফোন আসে রোববার থেকে গার্মেন্টস খোলা। কাজে যোগ না দিলে চাকরি থাকবে না। তাই কন্যাকে নিয়ে সকালে রওনা দিয়েছি। অনেক কষ্টে ফেরি পার হয়েছি। ফেরিতে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই। আমরা গাদাগাদি করে পার হয়েছি। খরচ হয়েছে আগের চেয়ে চারগুণ বেশি। সরকার বাস ও লঞ্চ খুলে দিলে আমাদের এতো ভোগান্তি হতো না।’

jagonews24

রাসেল নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমার বাসা মাদারীপুর জেলার শিবচর থানায়। গাজীপুরে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করি। চাকরি বাঁচাতে লকডাউনের মধ্যে ঢাকায় আসতে হলো। সরকার গার্মেন্টস খুলে দিল কিন্তু লোকগুলো কীভাবে ঢাকায় আসবে সেটা চিন্তা করল না। আসলে গরিব মানুষের জন্য সরকারের কোনো চিন্তা নাই।’

জেএ/জেডএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]