চট্টগ্রামে নানা ‘অজুহাতে’ বের হচ্ছে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৮ পিএম, ০৫ আগস্ট ২০২১

‘দীর্ঘদিন বন্ধ কলেজ। লকডাউনের কারণে ঘরের বাইরে তেমন বের হওয়া যায় না। বদ্ধ ঘরে আর ভালো লাগে না। তাই কলেজের কয়েকজন বন্ধু মিলে বেড়াতে বের হয়েছি।’

বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানা এলাকার ২ নম্বর গেট বিপ্লব উদ্যানে জাগো নিউকে কথাগুলো বলছিলেন তাহমিনা আক্তার।

শুধু তাহমিনা নয় বিপ্লব উদ্যান ও তার আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নগরের এ বিনোদন কেন্দ্রটিতে এসেছেন কয়েক’শ মানুষ। বেশিরভাগই কম বয়সী। তারা এসেছেন এমনিতে ঘুরতে। আবার বিকেলের এ সময়ে কেউ কেউ এসেছেন চাকরি শেষে একটু বিশ্রাম নিতে এবং কেউ এসেছেন এমনি হাঁটতে।

তাছাড়া বিপ্লব উদ্যানসহ আশপাশের এলাকায় ফিনলে স্কয়ার ছাড়া প্রায় সবকটি দোকানই খোলা রাখতে দেখা গেছে। একই সময়ে সড়কের ওপর প্রায় অর্ধশতাধিক টঙের দোকানের সবকটি খোলা রয়েছে। প্রত্যেক দোকান ঘিরে বেচাকেনা করছেন একাধিক ক্রেতা-বিক্রেতা। মূল উদ্যানের ভেতরে থাকা শতাধিক আসন শতাধিক আসনের সবকটি লোকে পূর্ণ। আবার উদ্যানের এলাকায় কোথাও কোথাও লোকজনকে দল পাকিয়ে আড্ডা দিতে দেখা যায়।

jagonews24

বিপ্লব উদ্যান ও চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মাঝামাঝি সড়কে দাঁড়ানো ছিল পুলিশের একটি গাড়ি। কিন্তু তাদেরকে অনেকটা নিস্ক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে। পুলিশ সদস্যদের কয়েকজনকে উল্টো লোকজনের সঙ্গে গল্প করতেও দেখা যায়।

বিধিনিষেধ অমান্য করে খোলা রাখা এক দোকানদারের কাছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশের অনিচ্ছায় তিনি বলেন, ‘আমরা কয়দিন না খেয়ে থাকব? আপনারা কি চান, আমরা পরিবার নিয়ে মরে যায়। একটু খুলে বেচাকেনা করে চাল কেনার টাকা হলেও যোগাড় করছি।’

দোকান খোলা ও লোকজনের উপস্থিতির বিষয়টি জানতে চাইলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য মো. শরীফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা এদিকে বন্ধ করে দিলে অন্যদিকে খোলে। সকালে অনেকগুলো দোকান খোলা ছিল আমরা বন্ধ করে দিছি। কিন্তু বিকেলে সবাই খোলে দিছে। অনেক সময় দোকান বন্ধ করতে বললে কেউ কেউ কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। তাছাড়া লোকজনকে এদিকে দৌড়ানি দিলে অন্যদিকে চলে চলে আসে।’

jagonews24

বিষয়টি নিয়ে জানতে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উত্তর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোখলেছুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করছি। লোকজন যদি না মানে আমাদের করার কি আছে? তারপরও বিষয়টি দেখতে আমি পাঁচলাইশ থানাকে বলছি।’

জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। দুই দফা ঘোষণায় এই বিধিনিষেধ চলবে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত। বিধিনিষেধে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন বের হতে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। একই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় ছাড়া সবধরনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়।

মিজানুর রহমান/এমআরএম/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]