সরকারি পরিকল্পনা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনার আলোকেই বাস্তবায়িত হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৬ পিএম, ১১ আগস্ট ২০২১

সরকারি যেসব পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়, সেগুলো বঙ্গবন্ধুর দেয়া নির্দেশনার আলোকেই বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন দর্শন, পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে তিনি এখনও বেঁচে আছেন প্রতিটা অগ্রযাত্রায়।

জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক দর্শন : শিল্প ও বাণিজ্য উন্নয়নে বাংলাদেশ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

সেমিনারে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা তোফায়েল আহমেদ বলেন, আজকের বাংলাদেশ যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, তার মূল ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। কৃষি, ব্যাংক-বিমা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, সব বিষয়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করে গেছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি। ষড়যন্ত্রকারীদের নির্মম হত্যাযজ্ঞে, বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের অকাল প্রয়াণে সদ্য জন্মানো রাষ্ট্রের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে। কিন্তু ২১ বছর পর ক্ষমতায় শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে, উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী বাস্তবতায় পাকিস্তানিদের ফেলে যাওয়া কল-কারখানা জাতীয়করণ করেছেন। কিন্তু দেশ স্থিতিশীল হওয়ার পরে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যমূলক অর্থনীতি গঠন করাই ছিল বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক দর্শন।

discussion1.jpg

এর আগে, প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, এ কে আজাদ, মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির।

স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন দেশ পুনর্গঠনে মনযোগ দিয়েছিলেন। যখন তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা আর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ঘাতকের বুলেট কেড়ে নেয় বাঙালির মুক্তির কাণ্ডারি শেখ মুজিবুর রহমানকে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু সময় পেয়েছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেই মাথাপিছু আয় ৯৩ ডলার থেকে ২৭১ মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছিলেন। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দিয়েছিলেন তাতেই প্রতিফলিত হয়েছিল তার গণমুখী আধুনিক দর্শন।

‘বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক দর্শন: শিল্প ও বাণিজ্য উন্নয়নে বাংলাদেশ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

তিনি বলেন, পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ বঞ্চনা দেখে, ১৯৪৭ সাল থেকেই স্বাধীনতার বীজ বুনেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পার হয়ে দেশকে স্বাধীন করার পর, তিনি একটি শোষণ বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তার অর্থনৈতিক দর্শনের মূল কথা ছিল সাধারণ মানুষের মুক্তি।

সেমিনারে সমাপনী বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু এবং সঞ্চালনা করেন এফবিসিসিআই’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।

ইএআর/এমএসএম/এমআরএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]