‘বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে জড়িতদের বিচারের সময় এসেছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪৬ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০২১

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার নেপথ্যে জড়িতদেরও খুঁজে বের করে বিচারের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছাসহ পরিবারের সদস্যদের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে শিল্পমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কোথাও এমন কোনো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটেনি, যেখানে একজন নেতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রচলিত আইনে হয়েছে। তবে অনেক প্রশ্নের সমাধান এখনো পাইনি, এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী হয়েছিল? এখন সময় এসেছে সমন্বিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি করে এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা ছিল তাদের খুঁজে বের করে বিচার করা।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার। মুখ্য আলোচক ছিলেন জাতীয় জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. মফিজুর রহমান।

jagonews24

শিল্পমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সারাজীবন বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি করেছেন। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ ও জাতি গঠনে বাঙালি জাতিকে প্রস্তুত করেছিলেন।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে দেশের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, এসএমই খাতের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশন, বিসিকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও প্রণোদনা দেয়া প্রয়োজন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নে রূপকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথে এগুচ্ছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগ থেকে অনেককেই সুবিধা নিতে দেখা গেলেও ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ জানাতে কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী বা পেশাজীবীদের কাউকে পাওয়া যায়নি। বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করা যাদের দায়িত্ব ছিল তারা তখন কী করেছিলেন, কমিশন গঠন করে তা বের করতে হবে। ১৫ আগস্টের পর যারা জীবনবাজি রেখে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন তাদের বাধা দেয়া হয়েছিল এবং তাদের প্রতিশোধ নিতে দেয়া হয়নি। এমনকি যারা জীবনবাজি রেখে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে চেষ্টা করেছেন, তাদের খোঁজও কেউ রাখেনি।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার মতো দেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারতো।

ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, দেশের উন্নয়নে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কতোটা প্রয়োজন, ২০২১ সালে তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ১৯৫৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য—‘এই দেশের অর্থনীতির জন্য আমাদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে দেশের পল্লী অর্থনীতির ওপর, কারণ পল্লী অর্থনীতির ওপর দেশের অর্থনীতির ৮০ ভাগ নির্ভরশীল’— প্রমাণ করে তিনি কতোটা দূরদর্শী ছিলেন।

ড. আরেফিন সিদ্দিক বলেন, মূলত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের অনুপ্রেরণা এবং উৎসাহেই বঙ্গবন্ধু তার তিনটি গ্রন্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ এবং ‘আমার দেখা নয়া চীন’ লিখেছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে একটি কমিশন গঠন করতে হবে।

এনএইচ/এইচএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]