ই-অরেঞ্জের ইউটিউব চ্যানেল থেকে সরেনি মাশরাফির বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫৯ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০২১

চুক্তি শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজার ছবি ও বিজ্ঞাপন ব্যবহারে দুঃখ প্রকাশের পরও বিতর্কিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ই-অরেঞ্জের ইউটিউব চ্যানেলে এখন আছে মাশরাফির বিজ্ঞাপন।

বুধবার (১৮ আগস্ট) সকালে ই-অরেঞ্জের ইউটিউব চ্যানেলে মাশরাফির চারটি বিজ্ঞাপন দেখা যায়।

অনলাইনে অর্ডার দেয়ার পর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও পণ্য বুঝে না পেয়ে গত সোমবার (১৮ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানটির সামনে ও সাবেক ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর মাশরাফির বাসার সামনে বিক্ষোভ করেন ই-অরেঞ্জের গ্রাহকরা। বারবার ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরও পণ্য না পাওয়ার অভিযোগ তাদের।

সেদিনই ই-অরেঞ্জের ফেসবুক থেকে জানানো হয়, ১ জুলাই থেকে মাশরাফি বিন মর্তুজার সঙ্গে তাদের চুক্তি শেষ হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তি শেষ হওয়ার পরও মাশরাফির ছবি ব্যবহার করায় দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।

পোস্টে বলা হয়, ‘ই-অরেঞ্জ.শপের সাথে ১ জুলাই, ২০২১ হতে মাশরাফি বিন মর্তুজার সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়েছে। তাই আমাদের অফিসিয়াল কোনো বিষয়ে তিনি কোনোভাবেই অবগত নয় এবং তিনি অফিসিয়ালভাবে কোনো কিছুরই আপডেট দিতে পারবেন না। আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি, তাদের কাছে যারা পণ্য অর্ডার করেছেন কিন্তু এখনো পণ্য হাতে পাননি। যেহেতু মাশরাফি বিন মর্তুজা আমাদের সঙ্গে আর চুক্তিবদ্ধ নেই, সেহেতু সবার কাছে অনুরোধ- এই বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ না করার জন্য। আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত, চুক্তি শেষ হওয়ার পরও মাশরাফির ছবি ব্যবহার করার জন্য।’

ই-অরেঞ্জের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৯ আগস্ট থেকে ক্রেতাদের সব পণ্য সরবরাহ শুরু হয়ে যাবে। মোটরসাইকেলের টাকা ধারাবাহিকভাবে রিফান্ড করা হবে।

জানতে চাইলে মাশরাফি বলেন, ‘ই-অরেঞ্জের সঙ্গে আমার ছয় মাসের চুক্তি ছিল। সেটা শেষ হয়েছে। আমি এখন এটার সঙ্গে নেই। তবুও একজন গ্রাহক যেখান থেকে বলছে, আমাকে তাদের পাশে থাকতে হবে। আইনগত জায়গায় খুব বেশি কিছু করার নেই। তিনি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত আছেন বলে জানান তিনি।

jagonews24

এ বিষয়ে ই-অরেঞ্জ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী মিরপুর বাংলা কলেজের ছাত্র নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘মাশরাফি ভাই যে এটার সঙ্গে নাই আমরা জানতাম না। তারা বিজ্ঞাপন চালাচ্ছিল ফেসবুক, ইউটিউবে। গত সোমবারের আগে ই-অরেঞ্জ কোনো নোটিশ দেয়নি। তারা আগে ব্যাপারটা ডিসক্লোজ করে নাই।’

গতকাল প্রতারণা মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবুবকর সিদ্দিকের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তারা। আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সোমবার গ্রাহকের ১১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ই-অরেঞ্জের গ্রাহক মো. তাহেরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গুলশান থানায় প্রতারণার মামলা করেন।

এসএম/এআরএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]