ওদের ষড়যন্ত্র এখনও থেমে নেই: মোস্তাফা জব্বার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪৫ পিএম, ২২ আগস্ট ২০২১

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই থেকে স্বাধীনতার যুদ্ধ ও সাড়ে তিন বছরের রাষ্ট্র পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু যে নীতি ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন তা পৃথিবীতে বিরল। বঙ্গবন্ধু প্রচলিত বাংলা ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার নীতি পাকিস্তান ও তাদের এ দেশীয় দোসর এবং সাম্রাজ্যবাদী আন্তর্জাতিক পরাশক্তি মেনে নিতে পারেনি বলেই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করার মধ্য দিয়ে এ রাষ্ট্রকে হত্যা করার লক্ষ্যেই ওরা জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা একই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতার ফসল। তিনি বলেন, একই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও ২১ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ওদের ষড়যন্ত্র এখনও থেমে নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (২২ আগস্ট) ঢাকায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন সাবেক ছাত্রনেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভাষ সিংহ রায়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহাদত হোসেন বক্তব্য দেন।

মন্ত্রী বলেন, সাড়ে তিন বছরে ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েও বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন, প্রাথমিক ও কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছিলেন, পরমাণু শক্তি কমিশন গঠন, টিঅ্যান্ডটি বোর্ড স্থাপন করেছেন, উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র স্থাপন করেছেন। কুদরত-ই-খোদা শিক্ষা কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষার আমূল পরিবর্তনের সূচনা করেছিলেন। দেশের প্রায় প্রতিটি সেক্টরকে যুগের চাহিদা মেটানোর উপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বস্তুতপক্ষে বিংশ শতাব্দীর জীবনযাপন ও ’৪১ সালে যেখানে বাংলাদেশ পৌঁছাবে তার বীজ বপন করে গেছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সতেরো বছরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথ বেয়ে তা অঙ্কুরিত করে বৃক্ষে রূপান্তরিত করেছেন। ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট, ১৩ নভেম্বরের রক্তের প্রবাহ মাস্টার দা সূর্যসেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, তিতুমীর আর হাজী শরিয়ত উল্লাহর রক্তপ্রবাহ এক হয়ে মিশে আছে।

মোস্তাফা জব্বার বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা তুলে ধরে বলেন, ইয়াহিয়া খানের লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা সত্ত্বেও সত্তরের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছিল বঙ্গবন্ধুর দূরদৃষ্টি সিদ্ধান্তের ফসল। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা যুদ্ধকে বিচ্ছিন্ন আন্দোলন বলার সুযোগ ছিল না। সত্তরের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নিরঙ্কুশ বিজয়ে পুরো দেশ এক হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাঙালির এই যুদ্ধে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছিল বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী সাবমেরিন ক্যাবলকে বাংলাদেশের লাইফ লাইন উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় ডিজিটাল হাইওয়ে গড়ে তুলতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীনে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সংস্থাকে দেশপ্রেমের মহান ব্রত নিয়ে কাজ করতে হবে।

মুখ্য আলোচক শুভাষ সিংহ রায় বঙ্গবন্ধুর জীবন, আদর্শ ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলা ও বাঙালির অহংকার। তিনি ৩২ বছর বয়সে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে চীনে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলায় ভাষণ দিয়ে বিশ্বনেতাদের তাক লাগিয়ে দেন। ’৭৪ সালে জাতিসংঘে তার বাংলায় ভাষণ বাঙালির জন্য অত্যন্ত গর্বের। বঙ্গবন্ধু সাম্রাজ্যবাদকে পরোয়া করেননি। তিনি বিশ্বের শোষিত মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন।

বক্তারা বঙ্গবন্ধুকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও বেশি করে তুলে ধরার মাধ্যমে বাঙালিদের গৌরবান্বিত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এইচএস/এআরএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]