বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর: মোস্তাফা জব্বার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩১ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০২১

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতির বড় সম্পদ। বিশ্বে অনেক রাজনীতিক দেখেছি, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। স্বাধীনতা সংগ্রাম, দেশপ্রেম কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তুলনা করার মতো একজনও নেই।’

বুধবার (২৫ আগস্ট) খুলনায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেড আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৪৮ সাল থেকে সত্তরের নির্বাচন পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রামের পথ বেয়ে একাত্তরের জনযুদ্ধ ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। কেবল তাই নয়, বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর তার সাড়ে তিন বছরের শাসনকালে তিনি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন থেকে শুরু করে প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণসহ বাংলাদেশের ভবিষ্যতের ঠিকানা নির্ধারণ করে দিয়ে গেছেন।’

বঙ্গবন্ধুর মতো দূরদর্শী রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক যুগে যুগে আসেন না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি হিসেবে টিঅ্যান্ডটি বোর্ড গঠন, বেতবুনিয়ায় ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, আইটিইউ, ইউপিইউ’র সদস্যপদ অর্জন, এমনকি খুলনার ক্যাবল শিল্পপ্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই হয়েছে। সুদীর্ঘকাল আগে কী করে বঙ্গবন্ধু আজ ও আগামীদিনের প্রয়োজনীয়তার কথা ভাবলেন এবং এসব প্রতিষ্ঠান ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন তা অভাবনীয়।’

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েও মাত্র সাড়ে তিন বছরে যেসব বড় কাজ করেছেন তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকায় আমি এ পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসেবে ১৫২টি বিশেষ উদ্যোগ পেয়েছি। আজকের বাংলাদেশ এই ভিত্তির ওপর ভর করেই অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে তারই সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে।’

বঙ্গবন্ধু বাঙালির অধিকারের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে বিভিন্ন শক্তি বিভিন্নভাবে জড়িত ছিল। বঙ্গবন্ধু কেবল বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠাই করেননি, বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব ছিল অর্থনৈতিক মুক্তির সোপান। একুশ শতকের শিক্ষা, যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ শোষণ, বঞ্চনা, বৈষম্যহীন, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় তিনি লক্ষ্য নির্ধারণ করে গেছেন।’

১৫ আগস্ট স্বাধীনতাযুদ্ধে পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্রেরই ফসল উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর ছয় বছরের শরণার্থী জীবন ও ’৮১ সালে দেশে ফেরার পর ১৫ বছর মরণপণ যুদ্ধ করে ২১ বছরের জঞ্জাল অপসারণ করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনৈতিক সংগঠন পুনর্গঠন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বঙ্গবন্ধু ঘোষিত অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এ অগ্রযাত্রা আরও বেগবান করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা গ্রাম ও শহরের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে কাজ করছেন।’ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারীদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

মুস্তাফা সারওয়ার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা কেবল বিপথগামী কয়েকজন সৈনিকেরই কাজ ছিল না, এর সঙ্গে তৎকালীন ওপর মহলের কর্তারাও কোনো না কোনোভাবে দায়ী। বিশ্বের অনেক নেতাই বঙ্গবন্ধুকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা কী ছিল প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতে পারেননি এদেশের মানুষে তাকে হত্যা করতে পারে।’

বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জগদীশ চন্দ্র মণ্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. মুস্তফা সারওয়ার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন। অনুষ্ঠানে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহাদাৎ হোসেন বক্তব্য রাখেন।

এইচএস/ইএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]