সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শামুকের প্রাতর্ভ্রমণ!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:৫৩ এএম, ২৬ আগস্ট ২০২১

রাজধানীর লালবাগের বাসিন্দা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আজহার আলী বুধবার সকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রাতর্ভ্রমণে আসেন। সঙ্গে তার দুই মেয়ে। লকডাউনের কারণে প্রায় দেড়-মাস ঘরবন্দি থাকার পর মেয়েদের নিয়ে বের হন। দুই মেয়েকে উদ্যানের রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করতে বলে নিজে ব্যায়াম শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর তার ছয় বছরের ছোট মেয়েটি বাবা বলে চিৎকার করে উঠে। ছুটে যান সেখানে। কৌতূহল আর ভয় নিয়ে মেয়েটি রাস্তায় কিছু একটা দেখিয়ে জিজ্ঞেস করে- বাবা, এটা কী প্রাণী, কিভাবে হাঁটছে?

আজহার আলী তাকিয়ে দেখেন রাস্তায় একটি শামুক শুঁড় উঁচিয়ে ধীর গতিতে সামনে এগোচ্ছে। রাস্তায় শামুককে হাটতে দেখে নিজেও কিছুটা বিস্মিত। এ সময় আরও কয়েকজন শামুকের প্রাতর্ভ্রমণ দেখতে এগিয়ে আসেন। তাদেরই একজন শামুক সম্পর্কে উপস্থিত সবাইকে বিস্তারিত জানান।

তিনি বলেন, শামুক হচ্ছে মোলাস্কা ফাইলামের গ্যাস্ট্রোপোডা শ্রেণির প্রায় সব সদস্যের সাধারণ নাম। এরা নরমদেহী ও প্রাপ্তবয়স্ক শামুকের দেহ একটি প্যাঁচানো খোলকে আবৃত থাকে। সাধারণত শামুক বলতে স্থলচর, সামুদ্রিক ও স্বাদুজলের শামুককে বোঝায়।

বেশিরভাগ শামুকই এপিথেলীয় সিলিয়া দ্বারা আবৃত পেশল পায়ের সাহায্যে পিছলে চলে। এই পা মিউকাসের সাহায্যে পিচ্ছিল হয়ে থাকে। পায়ের পেশীতে পরপর ঘন ঘন সঙ্কোচন ঘটিয়ে শামুক চলাচল করে। শামুকের চলার গতি অত্যন্ত ধীর। পূর্ণবয়স্ক হেলিক্স লুকোরাম প্রজাতির শামুকের ক্ষেত্রে এক মিমি/সেকেন্ড স্বাভাবিক গতি। শামুকের পায়ে থাকা মিউকাস ঘর্ষণ কমিয়ে তাদের পিছলে চলতে সাহায্য করে। এই মিউকাস ধারালো বা তীক্ষ্ণ বস্তুর আঘাত থেকে বাঁচতেও সাহায্য করে। এজন্য শামুক ধারালো বস্তু যেমন রেজর বা ব্লেডের ওপর দিয়েও চলতে পারে। এতে তাদের দেহ কেটে বা ছিঁড়ে যায় না।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রজাতির শামুকের আয়ু ভিন্ন ভিন্ন। প্রকৃতিতে আকাটিনিডে শামুক পাঁচ থেকে সাত বছর বাঁচে। আবার হেলিক্স প্রজাতির শামুক বাঁচে দুই থেকে তিন বছর। অ্যাকোয়াটিক অ্যাপল জাতের শামুকের আয়ু মাত্র বছর খানেক।

প্রকৃতিতে থাকা অবস্থায় শামুক নানা রকম খাদ্য গ্রহণ করে থাকে। স্থলচর শামুক তৃণভোজী। এরা পাতা, গাছের নরম বাকল, ফল, শাক ইত্যাদি খেয়ে থাকে। শামুকের কিছু প্রজাতি শষ্য ও বাগানে গাছের ক্ষতি করে বলে এদের ক্ষতিকারক কীটের দলেও ফেলা যায়। জলজ শামুক বিভিন্ন ধরনের খাদ্য যেমন- প্ল্যাঙ্কটন, অ্যালজি গাছ ও অন্যান্য জলজ আণুবীক্ষণিক জৈব বস্তু খায়।

ওই ব্যক্তি যখন শামুক সম্পর্কে বিস্তারিত বলছিলেন ততক্ষণে শামুকটি কিছু দূর এগিয়ে গেছে। শুধু এ শামুকটিই নয়, এরকম আরও অনেক শামুকই প্রাতর্ভ্রমণে বের হয় প্রতিদিন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রাস্তায় শামুকের প্রাতর্ভ্রমণ অন্যরকম এক ভালোলাগা ও কৌতূহলের জন্ম দেয় প্রাতর্ভ্রমণকারী মানুষের মনে।

এমইউ/এমইউএইচ/এআরএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]