‘টিকা নেওয়া আছে, তাই মাস্ক পরি না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৭ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

বাড্ডা লিংক রোড এলাকার আদর্শনগর গলির মাথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন কয়েক তরুণ। তাদের একজনের মুখেও মাস্ক নেই। জিজ্ঞেস করতেই ভিন্ন ভিন্ন উত্তর। একজন বলেন, ‘এতক্ষণ মুখেই ছিল, ছিঁড়ে গেছে।’ আরেকজনের জবাব, ‘আমার ভ্যাকসিন নেওয়া আছে।’ শুধু বাড্ডা নয়, রাজধানীজুড়েই এখন এমন চিত্র দেখা যায়।

কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বারবার বলা হয়েছে, করোনা নিয়ন্ত্রণে মাস্কের বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞরাও প্রতিনিয়ত বলছেন, টিকা এলেও করোনা যতদিন শতভাগ নিয়ন্ত্রণে না আসবে, ততদিন মাস্কের বিকল্প নেই। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে, মানুষের মধ্যে মাস্ক পরায় অনীহাও যেন বাড়ছে।

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়। এসব এলাকায় দেখা যায়, অনেকেই মাস্ক পরেননি। কারও আবার থুতনিতে ঝুলছে। কারও আবার বুক পকেটে রাখা। কেউ হাতে করে ঘুরছেন।

jagonews24

উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী বিআরটিসি বাসের দোতলায় উঠে দেখা যায়, নানা বয়সের বেশ কয়েকজনের মুখে মাস্ক নেই। কেউ ঘুমাচ্ছেন আবার কেউ একে অপরের সঙ্গে খোশগল্প করছেন।

মাস্ক পরেননি কেন জানতে চাইলে তাদের একজন জাগো নিউজকে বলেন, ‘মাস্ক তো পরিই। কিন্তু এ গরমে কতক্ষণ মুখে রাখা যায় বাবা।’ আরেকজনের জবাব, ‘আমার কিছু সমস্যা আছে।’

এরই মধ্যে একজন বাসে উঠলেন। এতক্ষণ মাস্ক পকেটে ছিল। কিন্তু বাসে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই মাস্ক মুখে পরলেন। বাসে উঠেই মাস্ক পরলেন কেন জানতে চাইলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন আপনি কে? সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বলেন, ‘আসলে মাস্ক সবসময় সঙ্গেই থাকে। যখন বেশি লোকজনের মধ্যে প্রবেশ করি তখন মাস্ক মুখে পরি।’ অনেক লোকের মধ্যে মাস্ক ছাড়া থাকলে লজ্জা করে বলেও জানান তিনি।

কাকড়াইল মোড়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন বেশ কয়েকজন। কারও মুখে মাস্ক আছে আবার কারও নেই। বাস আসার সঙ্গে সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে যে যার মতো বাসে উঠলেন। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা নেই।

jagonews24

পল্টন মোড়ের আজাদ প্রোডাক্টসের গলিতে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন বেশ কয়েকজন। মুখে মাস্ক থাকলেও ঝুলছিল থুতনিতে। জানতে চাইলে একসঙ্গে উত্তর দেন সবাই। তাদের বক্তব্য, ‘মাস্ক যে পরি না তা নয়। মাঝে মাঝে খুলে রাখি। এখন করোনা আগের মতো নেই।’ কথা বলতে বলতে সবাই তড়িঘড়ি করে মুখে মাস্ক পরেন।

দেশে ধারাবাহিকভাবে চলছে করোনার টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম। খুলে দেওয়া হয়েছে স্কুল-কলেজ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় মৃত্যু কমলেও এখনো মাস্ক খুলে রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

এ বিষয়ে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ও আইইডিসিআরের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, সার্বিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মানুষের মধ্যে মাস্ক পরার প্রবণতা ধরে রাখা সম্ভব নয়। মাস্ক পরার জন্য যতই তাগিদ দেওয়া হোক, মাঠ পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মানুষ ভাববে ‘ওসব শুধু বলার জন্য বলে’। যারা মাস্ক পরতে হবে প্রচার করেন, তারা শুধু প্রচারের জন্য কিছু টাকা পান, এটাই জনসাধারণের ধারণা। স্কুলে শিক্ষার্থীরা মাস্ক পরে। কারণ, শিক্ষকরা বাধ্য করেন। তেমনই রাস্তাঘাটে বাধ্য করার মতো কার্যকর পদক্ষেপ ধরে না রাখলে এটা সম্ভব নয়। প্রতিটি শহরের মেয়র, দায়িত্বশীল সব পর্যায়কেই এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এমআইএস/ইএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]