ডেঙ্গু-করোনা-গরমে বেড়েছে ডাবের দাম

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:২৪ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

বুধবার মধ্যদুপুর। রাজধানীর গ্রিন রোডের ওয়াইডব্লিউসিএর স্কুল সবেমাত্র ছুটি হয়েছে। স্কুলের ফটক দিয়ে ১০/১১ বছরের কিশোরী বাইরে বেরিয়ে অপেক্ষমাণ মায়ের হাতে ব্যাগ তুলে দিতে দিতে বললো ‘মা, ডাব এনেছো? ভীষণ গরম লাগছে, গলা শুকিয়ে গেছে।’

একটু আড়ালে গিয়ে মাকে বলতে শোনা যায় ‘মাগো, ছোট্ট একটা ডাবের দাম চাইলো ১১০ টাকা, কম রাখতে বললে এক দাম ১০০ টাকা বলে দিলো বিক্রেতা। এ জন্য ডাব কিনিনি, এসো তোমাকে মজার আইসক্রিম কিনে দিই।’

এগিয়ে গিয়ে কথা হয় তৌহিদা বেগম নামে ওই নারীর সঙ্গে। তিনি রাজধানীর জিগাতলার বাসিন্দা। তৌহিদা বলেন, মাত্র কয়েক মাস আগেও যে ডাব ৪০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০ টাকায় কিনেছি, এখন তা ১০০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না। দেখলে পছন্দ হবে না এমন ডাবের দামও ৮০ টাকা। লকডাউন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডাবের দাম।’

jagonews24

রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরির সামনে ডাব বিক্রেতা করিম মিয়া জানান, তিনি গত ৭-৮ বছর ডাব বিক্রি করছেন। বরাবরই ডাবের দাম ৩০-৬০ টাকার মধ্যেই বিক্রি করেছেন। কিন্তু এ বছর বড় আকারের একটি ডাব ১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। মাঝারি ও ছোট আকারের ডাবও ৭০-৮০ টাকার কমে বিক্রি করতে পারছেন না।

কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত বেশ কিছুদিন ধরে গরম বেশি পড়ার কারণে হঠাৎ ডাবের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। তাছাড়া করোনা ও ডেঙ্গু রোগীদের জন্যও অনেকেই ডাব কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

করিম মিয়া বলেন, ‘বর্তমানে চাহিদার তুলনায় ডাবের সরবরাহ কম থাকায় আড়তদাররা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। আমাগো মতো ফুটপাতে যারা দোকানদার, তারা ১০-১২ টাকা লাভে বিক্রি করতে পারলেই খুশি। কিন্তু বেশি দামে কেনা পড়লে তো আর কমে বিক্রি করে লোকসান গুনতে পারি না।’

jagonews24

সায়েন্স ল্যাবরেটরির অদূরে রিয়াজুল হাসান নামে ওষুধ কোম্পানির এক প্রতিনিধিকে ডাব খেতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে হাসপাতাল ভিজিটে বেরিয়েছি। দু-তিন ঘণ্টা ভিজিট শেষে রাস্তায় বেরিয়ে গরমে কলিজাটা ফাইট্টা যাওয়ার দশা। তাই ডাব খেতে আসলাম।’

দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তৃষ্ণায় আর দাম জিজ্ঞাসা করা হয়নি।’ তবে সেসময় বিক্রেতা তাকে ডাবের দাম ১০০ টাকা জানিয়ে দাম পরিশোধ করতে বলেন।

এলিফ্যান্ট রোডের ডাব বিক্রেতা কালাম শিকদার বলেন, ‘বর্তমানে ডাবের আমদানি কম। আগামী দু-এক মাসের মধ্যে নতুন ডাব আইবো। তখন ডাবের দাম কমবে।’

এমইউ/এএএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]