সায়েদাবাদ টার্মিনাল: ৫ কোটিতে ঠিকাদার নিয়োগ, ফিরছে শৃঙ্খলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩০ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

অবেশেষ রাজধানীর সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ইজারা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, পাঁচ কোটি ৩৬ লাখ টাকায় এক বছরের জন্য এ বাস টার্মিনালটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। এতে একইসঙ্গে দূর হয়েছে টার্মিনালটির অব্যবস্থাপনাও।

সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালটি পরিচালনা করে ডিএসসিসির পরিবহন বিভাগ। এ বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২০ সালে পরপর দুবার দরপত্র আহ্বান করেও একটি চক্রের কারণে কাঙ্ক্ষিত দর পাওয়া যায়নি।

সবশেষ গত ২৪ জুন সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের টার্মিনাল ফি, টয়লেট, শৌচাগার ব্যবহার (চারটি), গাড়ি ধোয়া ফি ও কুলি-মজুরি আদায় কাজের ইজারাদার নিয়োগে দরপত্র আহ্বান করে ডিএসসিসি। এ কাজে আট কোটি টাকা দর চাওয়া হয়। তখন পাঁচ কোটি ৩৬ লাখ টাকা দিয়ে প্রথম দরদাতা হয়েছে ‘৭ এলেভেন ঢাকা লিমিটেড’। তিন কোটি ৩৩ লাখ টাকা দিয়ে দ্বিতীয় হয়েছে ‘সাদ্দাম স্টেশনারি’। পরে গত ২৯ আগস্ট ‘৭ এলেভেন ঢাকা লিমিটেড’কে কার্যাদেশ দেয় ডিএসসিসি।

jagonews24

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৫ সালে এ টার্মিনালটি এক কোটি ৪২ লাখ টাকায় মেসার্স পানামা ট্রেডিংকে ইজারা দিয়েছিল ডিএসসিসি। এরপর এ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নানা অজুহাতে লোকসান দেখিয়ে আদালতে মামলা করেন এবং আরও কয়েক বছর টার্মিনালটি দখলে রাখেন। মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ার পর বারবার দরপত্র আহ্বান করে ডিএসসিসি। কিন্তু ঠিকাদার নিয়োগ দিতে পারেনি সংস্থাটি। এরপর অনেকটা বাধ্য হয়ে বিভাগীয় খাস আদায় পদ্ধতি বেছে নেয়া হয়। এজন্য সায়েদাবাদের কয়েকজন পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতার দ্বারস্থ হয় সিটি করপোরেশন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ওই পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকরা সিন্ডিকেট করে এ টার্মিনাল থেকে দিনে গড়ে দুই লাখ টাকা টোল আদায় করতেন। কিন্তু তারা মাত্র ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা করে ডিএসসিসির হিসাব বিভাগে জমা দিতেন। বাকি টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নিতেন। তাদের পর্যবেক্ষণে টার্মিনালটিতে ডিএসসিসির কেউ ছিল না। উল্টো সংস্থাটির পরিবহন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা এ কারসাজিতে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির পরিবহন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একটি চক্রের দখলে ছিল সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল। ফলে বারবার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েও ঠিকাদার নিয়োগ দিতে পারেনি ডিএসসিসি। এতে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে সংস্থাটি। এখন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে সে সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছেন ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এতে ডিএসসিসির রাজস্ব বেড়েছে কয়েকগুণ।

jagonews24

এরইমধ্যে গত ১ সেপ্টেম্বর সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের ইজারা বুঝে নেয় ৭ এলেভেন ঢাকা লিমিটেড।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনালের ভেতর চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার পাঁচ শতাধিক যাত্রীবাহী বাস এবং মিনিবাস পার্কিং করা রয়েছে। এসব বাস যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে। যাওয়ার আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ টোল (বড় বাস-৬০, মিনিবাস-৪০) আদায় করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৭ এলেভেন ঢাকা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফতাব উদ্দিন মাসুদ জাগো নিউজকে বলেন, টার্মিনালটি বুঝে নেওয়ার আগে ভ্যাট, ট্যাক্সসহ ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা ডিএসসিসিতে জমা দিতে হয়েছে। এখন নিজ ব্যবস্থাপনায় টার্মিনাল থেকে টোল আদায় করছি। ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যাদেশের মেয়াদ রয়েছে।

এমএমএ/এমকেআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]