জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনসহ ঐক্যমোর্চার পাঁচ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫২ এএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন ও বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনসহ পাঁচ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু সংগঠনসমূহের ঐক্যমোর্চা।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামসহ ২৩টি সংগঠন মিলে গঠিত ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু সংগঠনসমূহের ঐক্যমোর্চা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঐক্যমোর্চার প্রধান সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশগ্রহণ করেছিল। স্বাধীনতার ৫০ বছরে অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করলেও জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগণের জীবনে মানবাধিকার, মৌলিক স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি।

সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন ও বৈষম্য বিলোপ আাইন প্রণয়ন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি ও পার্বত্য ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন বাস্তবায়ন এবং সমতলের সংখ্যালঘু জাতিসত্তার ভূমি রক্ষায় স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন গঠন ও রাষ্ট্রীয় প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭ ধারা বাস্তবায়নের দাবি করেন তিনি।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, সঙ্কট উত্তরণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের ৬৬ পৃষ্ঠায় সম্পত্তি সংশোধনী আইন দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকৃত স্বত্বাধিকারীদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, অনগ্রসর ও অনুন্নত-ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, দলিত ও চা বাগান শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ কোটা এবং সুযোগ-সুবিধাসহ বেশ কিছু অঙ্গীকার করা হয়েছিল।

লিখিত বক্তব্য শেষে ঝুমন দাসের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রানা দাশগুপ্ত বলেন, ঝুমন দাসের বিষয়টি দুঃখজনক। তার ফেজবুক স্ট্যাটাসে ধর্মীয় অবমাননা ছিল না। কিন্তু ঝুমন নিরীহ হওয়া সত্ত্বেও তার জামিন হলো না। এরইমধ্যে আমরা সুপ্রিম কোর্টে জামিনের বিষয়ে আবেদন জানিয়েছি। প্রয়োজনে আমরা আবার আবেদন জানাবো। নাগরিক সমাজও মাঠে নেমেছে। আমরা আশা করি তিনি জামিন পাবেন।

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে রানা দাশ বলেন, উত্তরাধিকার আইন নিয়ে নানা তর্কবিতর্ক হচ্ছে। আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি এবিষয়ে। তবে আমরা পর্যালোচনা করছি। আশা করি একটি ঐক্যে পৌঁছাতে পারবো। এ বিষয়ে কাজল দেবনাথকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঐক্যমোর্চার বর্তমান লক্ষ্য নিয়ে রানা দাশগুপ্ত বলেন, আমরা এখন সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে লড়ছি। সরকার যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

আগামী নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে লংমার্চ করবেন বলেও জানান রানা দাশ। এসময় অনলাইনে গণস্বাক্ষর গ্রহণ কর্মসূচিরও ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রংসহ ঐক্যমোর্চার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএসএম/ইএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]