সিএনজি অটোরিকশাচালক সংগ্রাম পরিষদের ১০ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৪ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

দৈনিক জমা কমানো ও আগামীতে থ্রি-হুইলার লাইসেন্সধারী চালক ছাড়া ব্যক্তিমালিকানায় সিএনজি অটোরিকশা নিবন্ধন (ব্লু-বুক) না দেওয়াসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি অটোরিকশা চালক সংগ্রাম পরিষদ।

শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা চালকরা দিনরাত পরিশ্রম করি। কিন্তু পরিবারের খরচ চালানোই কষ্ট হয়ে যায়। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসাও করাতে পারি না। দীর্ঘদিন ধরে চালকরা মালিক-প্রশাসনের চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছি। এখন তা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

সিএনজিচালকরা বলেন, আমরা বছরের পর বছর সিএনজি চালিয়ে যাচ্ছি। অথচ আমরা ব্যক্তিগতভাবে একটা সিএনজির মালিক হতে পারি না। অথচ আমাদের কষ্টের পয়সায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে মালিকরা ধনী হচ্ছে।

এ সময় তারা ১০ দফা দাবি জানান।

১. ২০০৭ সালের ২৮ জুনের বিআরটিএ ঘোষণা অনুযায়ী সিএনজি অটোরিকশা নিবন্ধন প্রদানের জন্য যাচাই-বাছাইয়ের পর ঢাকায় তিন হাজার ১৯৬ জন অটোরিকশাচালকের কাছ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে নিয়ে আবেদনপত্র গ্রহণ করে। যা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।

২. সিএনজি অটোরিকশাচালককে নামমাত্র সরল সুদে সিএনজি অটোরিকশা কেনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ব্যাংকঋণ প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের সুদের টাকার ৫০ শতাংশ বা অর্ধেক ভর্তুকি প্রদান করতে হবে ও ট্যাক্স ফ্রি সিএনজি অটোরিকশা প্রদান করতে হবে।

৩. আগামীতে সিএনজি অটোরিকশাচালক ছাড়া ব্যক্তি মালিকানায় সিএনজি অটোরিকশা নিবন্ধন প্রদান করা যাবে না।

jagonews24

৪. ঢাকা মেট্রো সিএনজি অটোরিকশার দৈনিক জমা ৫০০ টাকা ও অন্যান্য জেলার ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা করতে হবে।

৫. ইয়েস পার্কিং না দেওয়া পর্যন্ত নো পার্কিং মামলা ও মিটারের মামলা চলবে না।

৬. বর্তমামে গাড়ির মালিক কর্তৃক সিএনজি অটোরিকশা চালকের নিয়োগপত্র দিতে হবে।

৭. সহজশর্তে ও অল্প অর্থে নতুন লাইসেন্স ও পুরাতন লাইসেন্স নবায়ন করতে দিতে হবে।

৮. মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করতে দিতে হবে। চন্দ্রা হতে টাঙ্গাইল শহর পর্যন্ত ও মাওয়া মহাসড়কে যেভাবে হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে প্রতিটি মহাসড়কে ডিভাইডার দিয়ে আলাদা লেন অবিলম্বে করতে হবে।

৯. যেহেতু সকল জনগণ সড়কের খাজনা দেয়, তাই আমজনতার দাবি সকল সড়কের খানাখন্দ মেরামত করে জেব্রা ক্রসিং, স্পিড ব্রেকার ও রোড ডিভাইডার এবং শাখা সড়কে (অ্যাপ্রোচ) অ্যারো চিহ্ন দৃশ্যমান রঙে রঙিন করতে হবে।

১০. দেশের যেসব সেতুতে টোলের ব্যবস্থা আছে, সিএনজি অটোরিকশার ক্ষেত্রে টোল ৫০ শতাংশ কর্তন করতে হবে। দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ও ঢাকা এবং চট্টগ্রামের উড়ন্ত সড়কের নিচে পর্যাপ্ত খালি জায়গা আছে। সেখানে মনোরম পরিবেশে গণশৌচাগার নির্মাণ করতে হবে।

এসব দাবি-দাওয়া আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণা দেয় সিএনজিচালক সংগ্রাম পরিষদ। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

বিএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]