মাদক অপরাধের জব্দবস্তু সংরক্ষণ-নিষ্পত্তিতে বিধিমালা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩৬ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধে আটক ও জব্দবস্তু সংরক্ষণ-নিষ্পত্তিতে হচ্ছে বিধিমালা। ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী ‘আটক ও জব্দকৃত বস্তু সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তি বিধিমালা, ২০২১’ এর খসড়া করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

খসড়াটি সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়ে আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে মতামত দিতে বলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ।

আটক ও জব্দকৃত বস্তু, আটক ও জব্দকৃত বস্তুর নমুনা গ্রহণ, আটক ও জব্দকৃত বস্তু সংরক্ষণ, আটক জব্দকৃত বস্তুর হিসাব সংরক্ষণ, আটক ও জব্দকৃত বস্তুর ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা, আটক জব্দকৃত বস্তুর নিরাপত্তা বিধান, আলামত খানা বা মালখানা পরিদর্শন, ঘটনাস্থলে আটক বা জব্দকৃত বস্তুর নিষ্পত্তি বিলিবন্দেজ, আটক বা জব্দকৃত বস্তু আদালতে উপস্থাপন করা, বাজেয়াপ্ত করা বস্তুর নিষ্পত্তিকরণ, আটক জব্দ করা বিলিবন্দেজ, আটক বা জব্দ করা বস্তু ফেরত প্রদান বিষয়ে খসড়া বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’ এর সংশ্লিষ্ট বিধান এবং এই বিধিমালা ও ম্যানুয়ালের বিধানাবলী এবং ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান ছাড়া কোনো বস্তু আটক বা জব্দ করা যাবে না।

কোনো বস্তু আটক করতে হলে তা অবশ্যই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং এই বিধিমালার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও ওই বস্তু মাদক অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিংবা মাদক অপরাধ প্রমাণের সহায়ক হতে হবে বলে বিধিমালায় উল্লেথ করা হয়েছে।

যে কোনো আটক ঘটনার পরে তা সম্পর্কে উদঘাটনকারী কর্মকর্তা তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার কাছে নির্দিষ্ট ফরমে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

আটক করা বস্তু অবশ্যই ঘটনাস্থল থেকে স্থানান্তর করে উদঘাটনকারী কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণ, দখল ও হেফাজতে নিতে হবে। আটক করা বস্তু ঘটনাস্থল থেকে বহন বা স্থানান্তর করার সময় যাতে সম্পূর্ণ বা আংশিক বিনষ্ট, ক্ষতিগ্রস্ত, বিকৃত বা তছরুপ না হয়- উদঘাটনকারী কর্মকর্তা সেই বিষয়ে দায়বদ্ধ থাকবেন।

কোনো বস্তু আটকের পর তার স্থানান্তরের অযোগ্য হলে মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ ও দখল সংক্রান্ত কাগজপত্র, দলিলাদি ইত্যাদি নিজ দখলে নেওয়ার পর ওই বস্তুর মালিক বা স্থানীয় জিম্মাদার রাখা হলে, জিম্মাদার যাতে ওই বস্তুর কোনো পরিবর্তন, স্থানান্তর ইত্যাদি করতে না পারে সেজন্য উদঘাটনকারী কর্মকর্তা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী জিম্মাদার ও মুচলেকা সম্পাদন করবেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কোনো বস্তু আটক করা হলে ঘটনাস্থলেই উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও বস্তুর বর্ণনা সম্বলিত ফরমভুক্ত লেভেলের আওতায় যথাযোগ্যভাবে সিলগালা অবস্থায় ওই বস্তুর নমুনা গ্রহণ করতে হবে।

আটক বস্তুর প্রকৃত সংখ্যা ও পরিমাণ, আকার, আকৃতি ইত্যাদি বিষয়ে যথাযথ বর্ণনাকে সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে প্রতিপাদনের জন্য বস্তুসমূহের স্থিরচিত্র, ভিডিওচিত্র গ্রহণ করা যাতে যেতে পারে। যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং উদঘাটনকারী কর্মকর্তাসহ অভিযানকারী দলের উপস্থিতি স্পষ্ট বোঝা যায়।

নমুনা পানি ও বায়ুরোধক প্যাকেটের বর্ণনা ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য সম্বলিত লেভেলসহ এমনভাবে সিলগালা করতে হবে, যাতে প্যাকেট খুলতে বা ভাঙতে গেলে লেভেল এবং সিল নষ্ট হয়ে যায়। আটক বস্তুর সংগৃহীত এবং সিল দেওয়া নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষকের কাছে পাঠাতে হবে।

সাধারণভাবে তরল পদার্থের ক্ষেত্রে প্রাপ্তি সাপেক্ষে কমপক্ষে ১০০ মিলিলিটার এবং কঠিন পদার্থের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১০০ মিলিগ্রাম পরিমাণ নমুনা সংগ্রহ করতে হবে।

আটকের পর কোনো বস্তু সাক্ষীদের সাক্ষ্য সম্বলিত লেভেল দিয়ে সিলগালা করা হলে আদালতের নির্দেশনা ছাড়া এই সিলগালা করা বস্তু থেকে কোনো কিছু বের করা যাবে না।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় বাজেয়াপ্ত যোগ্য বা অপরাধ প্রমাণের সহায়ক আটক বা জব্দকৃত সব বস্তু আটক বা জব্দের পর যত শিগগির সম্ভব সংশ্লিষ্ট অধিক্ষেত্র সম্পন্ন আদালতকে জানাতে হবে এবং মামলার তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করার আগে পর্যন্ত আটক বা জব্দকৃত বস্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার হেফাজতে থাকবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নিয়ে তা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ক্ষমতাপ্রাপ্ত অফিসার বা কর্তৃপক্ষের কাছেও থাকতে পারবে।

প্রতিটি আলামতখানা বা মালখানার দায়িত্বে উপ-পরিদর্শকের উপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দিতে হবে।

আলামতখানায় বা মালখানায় সংরক্ষণের সময় দায়িত্বে নিয়োজিত অফিসার আটক কা জব্দ করা বস্তুর রাসায়নিক ধর্ম ও প্রকারভেদ অনুসারে শ্রেণীবিন্যাস ও বিভাজন করে রাখবেন।

আটক করা বস্তু যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। শনাক্তকরণের জন্য এর গায়ে পরিচিতিমূলক বর্ণনা, পরিমাণ, সংখ্যা ও অবস্থা সম্বলিত লেভেল ও শনাক্তকরণ চিহ্ন সংযোজন করে যথাযথভাবে সিলগালা করে রাখতে হবে। আটক করা টাকা-পয়সা কিংবা মূল্যবান ধাতু ট্রেজারিতে রাখা যাবে বলেও খসড়া বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আরএমএম/ইএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]