মানুষের জন্য কল্যাণকর সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে: তাজুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৭ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, দেশ ও মানুষের জন্য কল্যাণকর যেকোনো প্রকল্পে উন্নয়ন সংস্থার অর্থায়ন না পেলেও সরকার নিজস্ব অর্থায়নে তা বাস্তবায়ন করবে।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্য পুওরেস্ট (আইএসপিপি) যত্নপ্রকল্পের অধীন ‘গুড প্র্যাকটিস অ্যান্ড লেসন লার্নড’ ওয়ার্কশপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশের জন্য যা মঙ্গলকর এবং লাভজনক এমন প্রকল্পে যদি বিদেশি কোনো সংস্থা অর্থায়ন না করে তাহলে আমরা কি সেই প্রকল্প নেবো না? অবশ্যই নিতে হবে এবং সরকার তা নিচ্ছে। কারণ সেই সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশ ও মানুষের উন্নয়নে অনেক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্য ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। শুধু প্রকল্প নিলেই হবে না, এগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রকল্প নেওয়া হয় আবার শেষও হয়। কিন্তু প্রকল্প থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং প্রকল্পের গুড প্র্যাক্টিসগুলো পরে কাজে লাগাতে হবে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষই সম্পদ। প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের সেই সুপ্ত প্রতিভাকে কাজে লাগাতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি উক্তি উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বঙ্গবন্ধু মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশ পেয়ে বলেছিলেন, ‘দেশে কিছু থাক আর না থাক, আমার মাটি ও মানুষ আছে।’ সেই মাটি ও মানুষকে সম্পদে রূপান্তরিত করে দেশ গড়ার কাজ শুরু করেন তিনি।

মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, নিজ সন্তানের জন্য, প্রতিবেশীর জন্য, দেশের মানুষের জন্য সর্বোপরি বিশ্ব মানবতার জন্য কাজ করতে হবে। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা আমি যতদিন বেঁচে থাকব শুধু সেই সময়ের কথা চিন্তা করে উন্নয়ন করবো, এটা ঠিক না। এ ধরনের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভাগুলোকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। এগুলোকে শক্তিশালী বা ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দেশের চিত্র পরিবর্তন করা সম্ভব।

যত্নপ্রকল্পকে একটি ব্যতিক্রম প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং তার শিশু যারা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, তাদের স্বাস্থ্যসেবায় সরাসরি অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। এই প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও যত্নপ্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক দীপক চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের অপারেশন ম্যানেজার ড্যাডেন চেন, অতিরিক্ত সচিব মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী।

স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত প্রকল্পটি রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের সাতটি জেলার ৪৩ উপজেলায় ৪৪৪টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্প এলাকার অন্তঃসত্ত্বা নারী অন্তঃসত্ত্বাকালীন সময়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সেবা, শূণ্য থেকে সাত মাস বয়সের শিশুদের ওজন ও উচ্চতার পরিমাপ এবং শিশুদের দৈহিক বিকাশ ও বৃদ্ধির জন্য অর্থ সহায়তা পেয়ে থাকেন।

আইএইচআর/ইউএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]