‘নারীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় অভিন্ন পারিবারিক আইন জরুরি’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৫ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

সম্পদ ও সম্পত্তিতে নারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে সংবিধানে বর্ণিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আলোকে সব নাগরিকের সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হলে অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়ন জরুরি বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) ‘প্রস্তাবিত অভিন্ন পারিবারিক আইন’ বিষয়ে অনলাইন মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তারা। সব নাগরিকের সমানাধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এ সভার আয়োজন করে।

মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের ৫০ বছরে এসে দেখা যাচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সমতার দর্শন থেকে দূরে আছি। সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পারিবারিক আইন সংস্কারের কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও আইনে বৈষম্য ও অসমতা বিদ্যমান। এটা দূর করে সমতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

সভায় মহিলা পরিষদ প্রস্তাবিত ‘অভিন্ন পারিবারিক আইন’ বিষয়ে লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করেন সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম।

অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব প্রসঙ্গে মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা থেকে রেহাই না পাওয়ার অন্যতম কারণ সামাজিক ক্ষমতা কাঠামোয় নারীর দুর্বল অবস্থান। নারীর ব্যক্তি অধিকার ধর্মীয় আচার-আচরণ দ্বারা নির্ধারিত। ধর্মের ভিত্তিতে নারী অধিকার নির্ধারিত হলে নারীসমাজ বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। কাজেই সাংবিধানিক ধারার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী নারীদের অধিকারসহ সব নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়ন জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘সরকার নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার জন্য সিডওসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সনদ সইয়েও অনুমোদন করেছে। এসব সনদ বাস্তবায়ন করতে হলেও অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়ন জরুরি। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এটা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং করে যাবে।’

মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, ‘প্রচলিত পারিবারিক আইনগুলো ধর্মীয় আইন ও প্রথার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে এটা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নারীদের মধ্যে এবং একই সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে।’

সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু অসাংবিধানিক আইন নিয়েই গত ৫০ বছর ধরে চলেছি। এ জন্য সম্পদ-সম্পত্তিতে নারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ অনেক আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। এটি সব নাগরিকের রাষ্ট্র। এসডিজির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে নারীর অধিকারের পক্ষে আন্দোলন চলছে। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় নানান প্রতিবন্ধকতা আছে। এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে মহামিলন হিসেবে কাজ করবে অভিন্ন পারিবারিক আইন।’

সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত বলেন, ‘এটা দু’এক বছরের ইস্যু, তা বলা যাবে না। আমাদের সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’

ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘অভিন্ন পারিবারিক আইন বলতে আমরা শুধু মুসলিম বা হিন্দু না, সবার কথা বলছি। এটা বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘সার্বজনীন মানবাধিকার, সাংবিধানিক অধিকার, ধর্মীয় রীতিনীতি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সবকিছুর সঙ্গেই আজকের আলোচনা খুবই প্রাসঙ্গিক। যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে আইন সংস্কার কার্যক্রমকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে, তারা কতটুকু ধর্মীয় চেতনা ধারণ করেন এবং কতটুকু কায়েমি স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত তা পরিষ্কার করে বোঝার প্রতি জোর দিতে হবে।’

অভিন্ন পারিবারিক আইন গবেষক ড. ফস্টিনা পেরেরা বলেন, ‘অভিন্ন পারিবারিক আইন শুধু মানবাধিকার আন্দোলন নয় বরং এটা রাষ্ট্রের এগিয়ে যাওয়ার প্রশ্ন। এ আইন প্রণয়নে রাষ্ট্রকে প্রথম এগিয়ে আসতে হবে। কারণ সংবিধানে সাম্য ও সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।’

সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক অ্যাডভোকেট মাকছুদা আখতার লাইলী।

এইচএস/এএএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]