ব্যবসায়ীকে আটকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৭ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান চৌধুরীসহ ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের আরাকান হাউজিং সোসাইটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।  

এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর পাঁচলাইশ মডেল থানা ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে চারজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আল মামুন তালুকদার। চট্টগ্রামের চীফ মেট্রোপলিটন আদালতেও লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।

তবে বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি।

ওই ব্যবসায়ী অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, ‘আমি পেশায় মুরগির খামারের ব্যবসায়ী। গত ৬ সেপ্টেম্বর বাঁশখালী থেকে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে মুরগির খাদ্য ক্রয় করিয়া ও পূর্বের বকেয়া টাকা পরিশোধ করার জন্য আসি। তখন আমাকে একটি নম্বর থেকে ফোন করে বলেন, আপনার নিকট হইতে আপনার ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিন বকেয়া টাকা গ্রহণের জন্য পাঁচলাইশ থানার এ.কে কনভেশন হলের সামনে অবস্থান করতেছে। তখন আমি তাদের ছল-চাতুরি বুঝতে না পেরে বাস থেকে উক্ত ঘটনাস্থলে নামার সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জোরপূর্বক অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে আরাকান হাউজিং সোসাইটির মামুনুর রহমান চৌধুরীর বাসার গলির ভেতরে নিয়ে ১২তলা ভবনের ছাদের উপর তুলে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, তারপর আমার প্যান্টের পকেটে থাকা পাওনাদারের এক লাখ পঁচাত্তর হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। আমার নিকট রক্ষিত সব জিনিসপত্র এবং স্যামসাং গ্যালাক্সি একটি মোবাইল সেট যার মূল্য ২০ হাজার টাকা, কেড়ে নিয়ে বেঁধে রাখে। পরবর্তীতে তারা আমার নিকট আরও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে উপর্যুপরি মারধর করে এবং অস্ত্রের বাট দিয়ে বাড়ি মেরে গুরুতর জখম করে। মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

পরে তার ছেলে আরও ৫০ হাজার টাকা বিকাশে তাদের দেয় এবং কৌশলে তার ছেলের কাছ থেকে তারা ব্যাংক চেক নিয়ে রাখে। এছাড়া তার কাছ থেকে স্ট্যাম্পে সই নিয়ে রাখে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী আল মামুন তালুকদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মামুনুর রশীদ চৌধুরীসহ ১০-১২ জন আমার কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ও ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষর নিয়ে নেয়। তাদের নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমি সঙ্গে সঙ্গে থানায় মামলা করতে পারিনি। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে থানায় ও আদালতে অভিযোগ দায়ের করি। র‍্যাবের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানাই।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মামুনুর রশীদ চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ সময় আমি ঢাকায় অবস্থান করছিলাম। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে এ অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম বোরহান উদ্দিন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা এরকম কিছু শুনিনি। এখন শুনলাম। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবো।’

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য জাগো নিউজকে এ বিষয়ে বলেন, অভিযোগগুলো দেখেছি। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিচ্ছি। জড়িত থাকলে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবো।

থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দায়ের করার জন্য আসছিল। কিন্তু তার কাছে তাৎক্ষণিক কোনো প্রমাণ ছিল না। তাকে প্রমাণসহ আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি আর আসেননি।

ওসির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী বলেন, থানায় যাওয়ার কথা শুনে অভিযুক্তরা আমাকে ফোন করে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেয়। সে ভয়ে আমি আর থানায় যাইনি।

আল সাদী ভুইয়া/এমএইচআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]