দেশের সুনাম নষ্টকারীরা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না: প্রধানমন্ত্রী

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৫২ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট করছে তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।

নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া এয়ারপোর্টের ম্যারিয়ট হোটেলে আওয়ামী লীগের ইউএস চ্যাপ্টার আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত কিছু লোক (সরকারের) সমালোচনা এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ব্যস্ত, এমন সময়ে তারা এসব করছে, যখন আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গেছে। যারা এসব করছে তারা দেশের জনগণের শত্রু।

কেউ যাতে দেশে মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি ভোগের জন্য নয়, আত্মত্যাগের জন্য। জিয়া, এরশাদ এবং খালেদা জিয়া কখনও জনগণের কল্যাণের কথা ভাবেননি, তারা ক্ষমতাকে ভোগ এবং দ্রুত অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসাবে বিবেচনা করতেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে উঠেছে। কিছু মানুষ আওয়ামী লীগ সরকারকে অবৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করছে। আমার প্রশ্ন হলো, তারা কীভাবে এ কথাগুলো বলার সুযোগ পায়?

তিনি আরও বলেন, তারা তার সরকারের তৈরি ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের সমালোচনার সুযোগ পাচ্ছে।

‘যদি তাদের কোনো আদর্শ থাকে, তারা কখনই তা করতে পারে না। যারা সরকারের সমালোচনা করছে তারা মূলত বিএনপি-জামায়াত চক্রের কেনা গোলাম।

শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান এবং এরশাদ সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতায় এসেছিলেন এবং হাইকোর্ট তাদের সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। খালেদা জিয়া এতিমদের অর্থ আত্মসাতের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং তার ছেলে (তারেক রহমান) ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। দুর্নীতিতে তাদের জড়িত থাকার তথ্যপ্রকাশ করেছে এফবিআই।

যুক্তরাষ্ট্রে জয়কে (সজীব আহমেদ ওয়াজেদ) অপহরণ ও হত্যার জন্য টাকা দিয়েছিল বিএনপি। ‘কিন্তু এখন তারা আওয়ামী লীগ সরকারকে অবৈধ বলছে,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে ভোট দিয়েছে জনগণ এবং বিএনপিকে বর্জন করেছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও জনগণের প্রতি বিশ্বাস থাকলে বিএনপিকে সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান প্রথম হ্যাঁ/না ভোট দিয়ে নির্বাচনী ব্যবস্থায় কারচুপি শুরু করেছিলেন, যখন খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে তাকেও ছাড়িয়ে যান, ওই নির্বাচনে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি এবং জনগণ ভোট কেন্দ্রে যাননি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র্রেও দুর্নীতির সঙ্গে খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তার দুই ছেলে তারেক রহমান ও কোকো দেশ থেকে অর্থপাচারের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সরকার তাদের পাচার করা অর্থের একটি অংশ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। বিদেশে অর্থপাচারের মাধ্যমে সেখানে বিলাসী জীবনযাপন করাই তাদের চরিত্র।

তিনি আরও বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ড্রিমলাইনার প্লেনে দুটি কারণে নিউইয়র্কে এসেছি। প্রথম কারণ হচ্ছে- অন্য এয়ারলাইন্সের পরিবর্তে দেশি এয়ারলাইন্সকে অর্থ দেওয়া এবং এভাবে আমাদের নিজের হাতেই এ ধরনের অর্থ থেকে যায়। দ্বিতীয়ত হলো-প্লেন উড্ডয়ন না করলেও প্রতিদিন একটি বিরাট অংকের টাকা খরচ হয়। এমনিতেই করোনা ভাইরাসের কারণে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো স্থগিত রয়েছে।

সরকার ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে পুনরায় ফ্লাইট পরিচালনার একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি কোনো কোনো মানুষকে এ কথাও বলতে শুনেছেন যে, তারা বস্তা ও ট্রাংকভর্তি করে প্লেনে নিউইয়র্কে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী এ অভিযোগকারীদের কাছে জানতে চান বস্তা ও ট্রাংকগুলো গেল কোথায়?

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ পরিষদের এ অধিবেশনে যোগ দিতে গত শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৯০১ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়েন শেখ হাসিনা।

এমএএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]