পরীর পাহাড় থেকে সাবেক ডিসির নামফলক সরালো কে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২১ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

পরীর পাহাড়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের বিপরীতে সরকারি কর্মচারী সমিতির আঞ্চলিক কার্যালয় ও ক্যান্টিন। ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর এর উদ্বোধন করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। তবে পাহাড়ে ওঠার পথে থাকা ভবনটি উদ্বোধনের নামফলকটি হঠাৎ করে উধাও হয়ে গেছে। তবে কার্যালয়ে ওঠার সিঁড়িতে থাকা আরেকটি নামফলক অক্ষত অবস্থায় দেখা গেছে।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নামফলকটি নেই। সে জায়গায় একটি বোর্ড বসানো হয়েছে।

এ নিয়ে আইনজীবী সমিতির অভিযোগ, নামফলকটি ডিসি অফিসের লোকজন তুলে ফেলেছে। আজ (শনিবার) পরীর পাহাড় এলাকা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। মূলত তার দৃষ্টি থেকে আড়াল করতেই এ কাজ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এএইচএম জিয়া উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ডিসি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় তাদের কোনো অবৈধ ভবন নেই। অথচ পাহাড়ের ওপর সাবেক ডিসি মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন সরকারি কর্মচারী সমিতির কার্যালয় ও ক্যান্টিনটির উদ্বোধন করেছিলেন। সেটির নামফলক মুখ্য সচিবের দৃষ্টির আড়াল করতেই তুলে ফেলা হয়েছে।

এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, নামফলক ভাঙার মতো ছোটোখাটো বিষয়ে চিন্তা করার সুযোগ আমাদের নেই। চট্টগ্রামে অনেক বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। আমরা ওইগুলো নিয়েই ব্যস্ত আছি।

এর আগে শনিবার সকাল থেকে পরীর পাহাড় এলাকা পরিদর্শন এবং জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সরকারের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরীর পাহাড় ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন দপ্তর কাজ করছে। এখানে আমার কিছু স্মৃতি আছে, আমি সেগুলো পরিদর্শন করেছি। কোনো বিরোধ নিরসনের জন্য এখানে আসিনি। বিরোধ নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসনসহ অন্যান্যরা আছেন তারা বিষয়টি দেখবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনজীবীরা ক্ষিপ্ত হবেন কেন? তারা কি মঙ্গলগ্রহ থেকে আসছেন। এখনও বিষয়টি নিয়ে সরকার আমাকে কোনো দায়িত্ব দেয়নি। তবে পরীর পাহাড় ইস্যুতে যেটা সবার জন্য মঙ্গলজনক হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আইনজীবীদের জন্য নতুন দুটি ভবন নির্মাণ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে জেলা প্রশাসন ও আইনজীবী সমিতি। জেলা প্রশাসন বলছে, আইনজীবীদের ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। আবার তারা নতুন দুটি ভবন নির্মাণ করতে চায়। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের লিজের শর্ত ভঙ্গ হবে।

অন্যদিকে আইনজীবী সমিতি বলছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই তাদের সবকটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন ভবনও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই করা হবে।

মিজানুর রহমান/এমএইচআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]