মসজিদ কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:১৬ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

মসজিদের উন্নয়নের নামে আদায় করা পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কাপ্তান বাজার জামে মসজিদ ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা কমিটির সভাপতি মহিউদ্দিন বুলুর বিরুদ্ধে। তিনি জোর করে মসজিদ কমিটির সভাপতি হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতারা।

রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) মসজিদ কমিটি ও মহল্লার ব্যবসায়ীদের ব্যানারে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তারা।

ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক (মোতাওয়াল্লি) মো. বাহাউদ্দিন বলেন, কাপ্তান বাজার (ঠাটারী বাজার) জামে মসজিদ ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা কমিটি, ইসি নং-১৫৬১৬, একটি ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদ। দীর্ঘদিন ধরে এই মসজিদের কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। হঠাৎ ২০১৯ সালে মহিউদ্দিন বুলু নিজে নিজে মসজিদ কমিটির নেতা বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, ক্ষমতা দখলের পর মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে মসজিদের চারতলা বাণিজ্যিক ভবন ভেঙে দেন। যার নির্মাণ খরচ চার কোটি ৫০ লাখ টাকারও বেশি। তার পাশাপাশি মসজিদের সম্পত্তি ৩০টি গোডাউন ও একটি কারখানা ভেঙে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া বাবদ মসজিদের আয় বন্ধ করে দেন তিনি।

তিনি জানান, মসজিদের উন্নয়নের নামে পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি চাঁদা আদায় করে তিনি আত্মসাৎ করেছেন।

মো. বাহাউদ্দিন অভিযোগ করেন, মহিউদ্দিন বুলু মসজিদের গণশৌচাগার ভাড়া বাবদ উত্তোলন করা এক কোটি ৫৪ লাখ টাকার অর্থ মসজিদ ফান্ডে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। সিনিয়র সহ-সভাপতি খন্দকার আবছারের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন অজুহাতে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছেন। কোষাধ্যক্ষ কসাই শামীম মসজিদের উন্নয়নের নামে কসাই পট্টি ও মাছ বাজারের ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ধার্য করে দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়াও মহিউদ্দিন বুলুর অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই দোকান ভাঙচুর, দোকানে তালা দেওয়াসহ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মসজিদ কমিটির বর্তমান সভাপতি মহিউদ্দিন বুলু জাগো নিউজকে বলেন, ‘মসজিদের মোতাওয়াল্লি বাহাউদ্দিন সাহেব হচ্ছেন মূল নাটের গুরু। আমার নামে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ এনে হয়রানি করার চেষ্টা করছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সভাপতি হতে চাইনি। ৪০ বছর ধরে কমিটির সভাপতি তাজ মোহাম্মদ সাহেব আমাকে এনে এখানে বসিয়েছেন। তাজ মোহাম্মদ সাহেবের বিরুদ্ধেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনেছিলেন বাহাউদ্দিন সাহেব। এতে তাজ মোহাম্মদকেও মামলার পিছনে অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে।’ এখন তারা দুইপক্ষ নিজেরা আঁতাত করে আমাকে ফাঁসানোর চিন্তা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মহিউদ্দিন বুলু বলেন, ‘আমি সব কাগজপত্র দুদকে দাখিল করবো। আইন-আদালতে বিচার হবে। যদি আমি অন্যায় করে থাকি অবশ্যই আমার বিচার হবে।’

এএএম/এআরএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]