বয়স্করা গণটিকায় অগ্রাধিকার পাবেন তো?

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:৫৩ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁওয়ের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব হনুফা বেগম রাজধানীর আজিমপুরের একটি বাসায় গত পাঁচ বছর ধরে গৃহকর্মীর কাজ করেন। গৃহকর্তা ও স্ত্রী অনলাইনে নিবন্ধন করে মাস দুয়েক আগেই করোনার দুই ডোজ টিকা নিলেও হনুফা তা পারেননি।

তার জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রামে ছেলেদের কাছে থাকায় তিনি নিবন্ধনও করতে পারেননি। সে কারণে টিকাও নিতে পারেননি। নিবন্ধনের জন্য সম্প্রতি জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আসেন।

টেলিভিশনে খবর দেখে গৃহকর্তা তাকে জানান, ২৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সারাদেশে ৮০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। নিবন্ধন না করলেও জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে টিকা নিতে পারবেন। এর মাঝে ৫০ বছরের বেশি বয়সী, নারী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হবে।

এ কথা জেনে খুশি হলেও তার মনে প্রশ্ন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা পাবেন তো?

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এর আগে গৃহকর্ত্রীর সঙ্গে টিকাদানকেন্দ্রে গিয়েছিলেন। তাদের তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে টিকা নিতে হলেও তার নাতির বয়সীদের কেন্দ্রে এসেই টিকা নিতে দেখেছেন।

জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে সোমাবার তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে গত মাসে পরিচালিত গণটিকা কার্যক্রমে টিকা নিতে গিয়ে অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে টিকা পাননি। অনেক বয়স্ক নারীরাও কেন্দ্র থেকে ফিরে যান।

আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে সারাদেশের সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা এবং ইউনিয়নে দিনব্যাপী বিশেষ করোনার টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, এদিন প্রায় ৮০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে তারা ৭৫ লাখ ডোজ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। কাল সিনোফার্মের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হবে। পরবর্তী মাসে একইভাবে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে।

তারা আরও জানান, ক্যাম্পেইন শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পঞ্চাশোর্ধ্ব জনগোষ্ঠী, নারী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। টিকা নেওয়ার জন্য অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র ও টিকা কার্ড সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে।

রোববার প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানান, টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে ৩২ হাজার টিকাদান কর্মী ও ৪৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবে। প্রতি ইউনিয়নে তিনটি টিকাদানকেন্দ্র ও সিটি করপোরেশন এলাকায় একেকটি ওয়ার্ডে তিনটি করে টিকাদান কেন্দ্র থাকবে। পৌরসভায় একটি করে টিকাদান কেন্দ্র থাকবে। এতে মানুষ নির্বিঘ্নে টিকা নিতে পারবে।

এমইউ/এমএইচআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]