সিইউবির চিত্র প্রদর্শনীতে শেখ হাসিনার বর্ণাঢ্য জীবন

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৩২ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে চলছে তিনদিনের বিশেষ চিত্র প্রদর্শনী। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (সিইউবি) উদ্যোগে রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিন সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ব্যবসায়ী নূর আলী, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের নির্বাহী চেয়ারম্যান শাহানুল হাসান খান এবং ইউনিভার্সিটির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা প্রফেসর ড. এইচ এম জহিরুল হক।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যে কাজ সমাপ্ত করতে পারেননি, সেই কাজগুলো যিনি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সেই মানুষটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি আরও বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য যে পরিক্রমা এবং পথ নকশা তৈরি করা প্রয়োজন সেটি তিনি করেছেন। আমরা এখন আর হতদরিদ্র দেশ নই, উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হতে যাচ্ছি।

শুধু বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরি হিসেবে নয়, প্রধানমন্ত্রী তার যোগ্যতা, মেধা-প্রজ্ঞা, দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি মমত্ব দিয়ে এটা অর্জন করেছেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

এদিকে চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করায় ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাতকে ধন্যবাদ জানান প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

তিনি বলেন, আমি অবাক হয়ে খেয়াল করলাম, ছবিগুলোতে ধারাবাহিকভাবে শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর, তার ব্যক্তি-পারিবারিক জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং আধুনিক বা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের বিষয়গুলো যেভাবে সাজানো হয়েছে তা অসাধারণ।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনকে স্মরণীয় করতে তার রাজনৈতিক সংগ্রাম ও বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার সব কিছু চমৎকারভাবে প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান জুনাইদ আহমেদ পলক।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশকে শুধু গণতন্ত্র উপহার দেননি, ডিজিটাল বাংলাদেশ উপহার দেননি, প্রজন্মকে তিনি ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রে যে মনস্তাত্ত্বিক নির্দেশনা দিয়েছেন, সেটি শত শত বছর পরে ইতিহাস হয়ে থাকবে।

একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও দরিদ্র রাষ্ট্রকে শেখ হাসিনা মাত্র ১২ বছরের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করেছেন বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, আমরা এমন একজন মহান নেতার জন্মদিন উদযাপনে এই আয়োজন করেছি, যিনি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে অনেক আগেই একজন প্রভাবশালী বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন। যার অনন্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বুকে এক মর্যাদাশীল দেশের নাম। এই চিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত।

তিনি আরও বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা পেয়েছিলাম মহান স্বাধীনতা। শুধু স্বাধীন দেশ নয়, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি। ২০০৯ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে সেই লক্ষ্য সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যে বাংলাদেশ এক সময় পরিচিত ছিল বন্যাকবলিত, দারিদ্র্যপীড়িত দেশ হিসেবে, সেই দেশই এখন সারাবিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল বলে মন্তব্য করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের এই চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ কনসেপ্ট বিশ্বকে আলোড়িত করেছে। কোভিড-১৯ সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ক্যারিশমাটিক নেতৃত্ব তাকে জায়গা করে দিয়েছে বিশ্বের সেরা ৩ নেতার কাতারে।

শেখ হাসিনার উন্নয়ন-দর্শন তরুণদের সামনে তুলে ধরে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতেই এ আয়োজন বলে জানায় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ।

প্রদর্শনীটি মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এর আগে রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় হোটেলে শেরাটনে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের ১ যুগ’ শিরোনামের এ প্রদর্শনীতে রয়েছে সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক যুগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বৈশ্বিক অঙ্গনে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আলোকচিত্র। শেখ হাসিনার জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তের দুর্লভ ছবিও রয়েছে প্রদর্শনীতে।

জেডএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]