আর বাইকই চালাবো না

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৯ এএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোডে মোটরসাইকেল পুড়িয়ে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সারাদেশে আলোচনায় আসেন অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং পাঠাওচালক শওকত আলী। সকাল পৌনে ১০টার দিকে জনতা ইন্স্যুরেন্সের সামনে ট্রাফিক পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি।

গত সপ্তাহে ট্রাফিক পুলিশ একটি মামলা দেওয়ার পর এদিন কাগজপত্র দেখতে চাইলে ক্ষোভ থেকে এ কাজ করেছেন বলে জানান।

এরপর সকালেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ডিএমপির বাড্ডা থানায়। সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় পোড়া বাইকটিও। নিজের মোটরসাইকেলে আগুন লাগানোর পর প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশের সঙ্গেই ছিলেন রাইড শেয়ারের আলোচিত চালক শওকত আলী।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনারের (ডিসি) কার্যালয় থেকে বের হন তিনি।

সেখান থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে বাসায় পৌঁছায় শওকত। এরপর জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় শওকতের।

রাতে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, পেটের দায়ে সংসার চালাতে মোটরসাইকেল চালাতাম। কিন্তু সারাদিন রোদে পুড়ে অ্যাপ কোম্পানি ইনকামের ২৫ ভাগ টাকা কেটে নেয়। আবার অ্যাপ ছাড়া বাইক চালালে পুলিশ মামলা দেয়। পুলিশের জন্য নয়, অ্যাপ কোম্পানির ওপর ক্ষোভেই আমি রাগ করে বাইক পুড়িয়ে দিয়েছি। আর বাইকই চালাবো না।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শওকত বলেন, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাসা থেকে নিজের টিভিএস মোটরসাইকেলটি নিয়ে বের হয়ে যাত্রী নিয়ে গুলশানে যান। লিংক রোডের মোড়ে আরেক যাত্রী তোলার জন্য কথা বলছিলেন। সেই সময়ই পুলিশ এসে তার মোটরসাইকেলের কাগজ চায়। দুই সপ্তাহ আগে মামলা খাওয়ার কথাও জানান তিনি।

পুলিশ সারাদিন আমার সব বিষয়ে সহযোগিতা করেছে। আজকের ঘটনাটি ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুর্ঘটনা। এর মধ্যে আমার রাগটাও ছিল অপ্র্যাশিত। এছাড়াও আবেগ খারাপ জিনিস তা আমি বুঝতে পারছি।

তবে সারাদিন রোদে পুড়ে বাইক চালিয়ে টাকা আয় করা এটার অন্যায়টা কোন ধারায় সেটার বিষয়ে আমার প্রতিবাদ ছিল। লোকদের থেকে টাকা নিয়ে আমি রাইড শেয়ারিং অ্যাপের হাতে তুলে দেব, আর সেই অ্যাপসয়ালাওদের (রাইড শেয়ারিং অ্যাপ) জন্য আমি মামলা খাবো?

আমি সকালে থানায় গিয়েছিলাম। এরপর সেখান থেকে আমার ইচ্ছা ছিল গুলশানের ডিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলবো। থানা থেকে বের হয়ে গুলশানের ডিসি স্যারের অফিসে যায়। সেখানে রাতে ডিসি স্যারের সঙ্গে দেখা হয় এবং কথা হয়। এরপর রাতে আমি বাসায় ফিরি।

তিনি আরও বলেন, আমি রাইড শেয়ার করছি পেটের দায়ে, চুরি করার জন্য রাস্তায় বের হয়নি। আপডেট কাগজ থাকার পরেও আমি বাইক নিয়ে রাস্তায় বের হলে মামলা খাবো-এর প্রতিবাদে আমি বাইক পুড়িয়েছি এবং আমি অ্যাপয়ালাওদের জন্য মামলা কেন খাবো?

রাইড শেয়ারিং অ্যাপ কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোনও রাইড শেয়ারিং অ্যাপ কোম্পানির পক্ষে নেই। অ্যাপ দিয়ে আমার লাভটা কোথায়? অ্যাপে শুধু একটাই লাভ যাত্রীদের সঙ্গে কন্টাক্ট করিয়ে দেবে। অ্যাপের হয়রানি প্রচুর। অ্যাপে একটি ট্রিপ মারলে লাভ তেমন হয় না।

পাঠাওচালক আরও বলেন, আমি যে কাজটি করেছি তা খুবই অন্যায়। আমার বিরুদ্ধে মামলাও হতে পারতো। গাড়ি পুড়িয়ে আমার প্রতিবাদটি ছিল শুধুই রাইড শেয়ারিং অ্যাপ কোম্পানির বিরুদ্ধে। তবে এটি করা আমার উচিত হয়নি। বিষয়টি আমি পরে বুঝতে পেরেছি। দোষ করলে পুলিশ মামলা দেবে এটিই স্বাভাবিক।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, কাগজপত্র না দিয়ে ওই চালক ক্ষিপ্ত আচরণ করেন। পরে তিনি নিজেই নিজের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। প্রাথমিকভাবে তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে মনে হয়েছে।

টিটি/এমআরএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]