‘নরম মাটিতে জিওটেক্সটাইল মোড়ানো বাঁধ ভূমিকম্প প্রতিরোধী’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৫ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

নরম মাটিতে জিওটেক্সটাইল মোড়ানো খাড়া বাঁধ ভূমিকম্প প্রতিরোধী এবং টেকসই। ভূমিকম্প অথবা ওয়েভের (সাইনসয়ডাল) সময় বাঁধের বিভিন্ন স্তরের গতিশীল গুণাবলি কী রকম পরিবর্তন হয়, সেটা বিবেচনায় নিয়ে ডিজাইন করলে বাঁধটি ভূমিকম্প প্রতিরোধী ও টেকসই হবে।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) পুরকৌশল বিভাগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের নরম মাটিতে ভূমিকম্প প্রতিরোধী মোড়ানো বাঁধের প্রয়োগ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, মোড়ানো বাঁধটি বিভিন্ন জিওটেক্সটাইল দ্বারা প্যাঁচানো থাকে এবং বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের বালু (সিমেন্ট বালু অথবা লোকাল বালু) দ্বারা পূর্ণ করা হয়। বাঁধটি খাড়া হওয়ায় প্রচলিত বাঁধের তুলনায় দুই পাশের কৃষিজমি অধিগ্রহণ করার প্রয়োজন হবে না। বাঁধটি তৈরি করার সময় দুই ধরনের ওভেন অথবা নন-ওভেন জিওটেক্সটাইল ব্যবহার করা হয়। মোড়ানো বাঁধটি নরম মাটির গুণাবলির পারস্পরিক অবস্থান, ভৌগোলিক অবস্থা এবং ইজিএলের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন লেয়ারের হয়ে থাকে।

তারা বলেন, ভূমিকম্প বা বিভিন্ন ওয়েভের সময় নরম মাটির উপর নির্মিত বাঁধের গতিশীল গুণাবলি বিশ্লেষণ করা এবং এমন ধরনের বাঁধ নির্মাণ করা যেটা ভূমিকম্প প্রতিরোধী হবে। পাশাপাশি গতানুগতিক বাধের তুলনায় কম খরচে নির্মাণ করা যাবে এবং এটি নির্মাণে কম জায়গার প্রয়োজন হবে।

‘মোড়ানো বাঁধ সরকারের ব্যাপক জমি অধিগ্রহণ ব্যয় কমিয়ে দেবে। বাঁধটি খাড়া হওয়ার কারণে দুইপাশের জায়গা প্রয়োজন হবে না। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, মোড়ানো বাঁধটি ৭০ শতাংশ খরচ কমিয়ে দেবে প্রচলিত বাঁধের তুলনায়। বলা যায় যেখানে ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা মোড়ানো বাঁধ নির্মাণে প্রয়োজন হবে, যেটা প্রচলিত বাঁধ নির্মাণে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা লাগতো জমি অধিগ্রহণের খরচসহ। ব্যাপক কৃষি জমি রাস্তা বানানোর জন্য ব্যবহার কতে হবে না। এসব কৃষি জমিতে কৃষি উৎপাদন হবে।’

বক্তারা আরও বলেন, বাঁধটি জলবায়ু সহিষ্ণু হবে অর্থাৎ বন্যা ও সাইক্লোন এটি সহ্য করতে পারবে। বাঁধটি জিওটেক্সটাইল দ্বারা মোড়ানো থাকর কারণে এবং বালুর সঙ্গে ঘর্ষণ ডেভেলপ করা এবং পাশাপাশি অভ্যন্তরীণভাবে ইন্টারলক থাকার কারণে এটি প্রচলিত বাঁধের থেকে বেশি বন্যা ও সাইক্লোনের প্রভাব সহ্য করতে পারবে।

অনুষ্ঠানে আইইবি পুরকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূরের সভাপতিত্বে এবং বিভাগের সম্পাদক অমিত কুমার চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং আইইবির সাবেক সভাপতি আবদুস সবুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবির সভাপতি নূরুল হুদা, আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (এইচআরডি) নূরুজ্জামান এবং এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ খান।

স্বাগত বক্তব্য দেন আইইবির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহাদাৎ হোসেন (শীবলু)। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ড. ইঞ্জিনিয়ার রিপন হোড়। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিভাগের সহ-সভাপতি মো. জিকরুল হাসান।

এমএমএ/এমআরআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]