অপরিকল্পিত নগরায়ণ জলবায়ু বিপর্যয়ের ভয়াবহতা বাড়াচ্ছে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৭:১১ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্ববাসীর দুই-তৃতীয়াংশ বিভিন্ন বড় নগর বা শহরে বাস করবে। অর্থাৎ পুরো মানবগোষ্ঠী নগরায়িত হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ জলবায়ু বিপর্যয়ের প্রভাবে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। অপরিকল্পিত নগরায়ণ জলবায়ু বিপর্যয়ের ভয়াবহতা বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণে।

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১০টায় ইকোসিটি স্যাটেলাইট কনফারেন্স-২০২১ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন।

তারা বলেন, অপরিকল্পিত দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের মানুষ শহরমুখী হচ্ছে। যান্ত্রিক যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্প-কারখানার ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য, আবাসিক বর্জ্য পরিবেশকে দূষিত করছে প্রতিনিয়ত। মোট কার্বন নিঃসরণের ৮০ শতাংশই করে নগরগুলো। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, যানজট, শব্দদূষণ, বায়ুদূষণের ভয়াবহতা।

সমগ্র বিশ্ব এখন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ, টেকসই উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি, সামাজিক সমতার দিকে জোর দিচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশ ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ের মতো বড় বড় প্রকল্পকে প্রাধান্য দিচ্ছে। এগুলো আপাতদৃষ্টিতে উন্নয়ন মনে হলেও আমরা পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু বিপর্যয় বিবেচনায় অনেক বড় ঝুঁকিতে দাঁড়িয়ে আছি। নেপালেও এখন দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে। নেপালের যে প্রাকৃতিক সম্পদ সেটিকে প্রাধান্য দিয়ে নগর পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

নেপালের সেন্টার ফর ডিজাস্টার স্টাডিজের ডেপুটি ডিরেক্টর প্রফেসর ড. সঙ্গীতা সিংয়ের সভাপতিত্বে ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা নাঈমা আকতারের সঞ্চালনায় সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, নেপালের ধুলিখেল মিউনিসিপাল সিটির মেয়র অশোক ব্যানজু এবং হেলথব্রিজ ফাউন্ডেশন অব কানাডার আঞ্চলিক পরিচালক দেবরা ইফরইমসন। এছাড়া ইকোসিটি বিল্ডার্সের নির্বাহী পরিচালক একটি ভিডিও বার্তা পাঠান।

হেলথব্রিজ ফাউন্ডেশন অব কানাডার আঞ্চলিক পরিচালক এবং ইকোসিটি স্যাটেলাইট কনফারেন্সের সহ-আহ্বায়ক দেবরা ইফরইমসন বলেন, জলবায়ু বিপর্যয়ের ভয়াবহতা এবং এক্ষেত্রে নগরায়ণের সঙ্গে এর সম্পর্ক বিবেচনায় এ বছর ইকোসিটি স্যাটেলাইট কনফারেন্স-২০২১ এর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বায়ো ডাইভারসিটি: অ্যাড্রেসিং এনভায়রনমেন্ট ডিজাস্টার থোরু হেলদিয়ার সিটি’।

দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে নগর পরিকল্পনা, সবুজায়ন, নগর কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, নিরাপদ খাদ্য, উন্মুক্ত গণপরিসর, অন্তর্ভুক্তিতা হেঁটে ও সাইকেলে যাতায়াত সর্বোপরি অযান্ত্রিক যানের ব্যবহার বৃদ্ধি, অর্থাৎ বসবাসযোগ্য নগরী বা ইকোসিটি নিশ্চিতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন ও পরবর্তী ধাপে অ্যাডভোকেসি করা হবে।

গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, বাংলাদেশ কার্বন নিঃসরণ করে খুবই কম কিন্তু যেসব দেশ জলবায়ু বিপর্যয়ের জন্য ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। বিশেষত আমাদের দেশের উপকূলীয় এলাকার প্রান্তিক মানুষগুলো নদীভাঙন, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, বন্যা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। আমরা এখন বলছি গ্রাম হবে শহর। শহরে পরিণত করতে গিয়ে গ্রামীণ এলাকার খাল-জলাশয়, উন্মুক্ত স্থান হারিয়ে যাক তা আমাদের কাম্য নয়। আমাদের নীতিমালাগুলো এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে শহরগুলোতে মানবসৃষ্ট দূষণ কমে আসে। উন্নয়ন প্রয়োজন, কিন্তু তা পরিবেশ ও প্রকৃতির বিনিময়ে নয়। তিনি সম্মেলনের ঘোষণাপত্র সংসদে উপস্থাপন করবেন বলে জানান।

নেপালের ধুলিখেল মিউনিসিপাল সিটির মেয়র এবং মিউনিসিপাল অ্যাসোসিয়েশন নেপালের প্রেসিডেন্ট অশোক ব্যানজু বলেন, নেপালের প্রাকৃতিক সম্পদ অতুলনীয়। আমাদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা আছে। পানি আমাদের একটি বড় সমস্যা। এ কারণে আমরা একটি বাড়ি একটি নলকূপ এ উদ্যোগ নিয়েছি। পাশাপাশি ধুলিখেল মিউনিসিপালটিতে কৃষি সম্প্রসারণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে উন্নয়ন নিশ্চিতের মাধ্যমে জনকল্যাণ ও শহরের বসবাসযোগ্যতা নিশ্চিতে কাজ করছি।

নেপালের সেন্টার ফর ডিজাস্টার স্টাডিজের ডেপুটি ডিরেক্টর প্রফেসর ড. সঙ্গীতা সিং সভাপতির বক্তব্যে বলেন, নেপালে নগরায়ণ অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় দ্রুত নগরায়ণের ক্ষেত্রে নেপাল দ্বিতীয় অবস্থানে। এ কারণে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে নেপাল সরকার এ অবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে। এ কারণে নেপালের নগর পরিকল্পনায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিতা, প্রবেশগম্যতা, টেকসই উন্নয়ন এ বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। আমরা যদি পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু বিপর্যয়ের বিষয়ে সতর্ক না হই তবে কোভিডের থেকেও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিইং বাংলাদেশ, হেলথব্রিজ ফাউন্ডেশন অব কানাডা, ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুলচক ক্যাম্পাস, দিগোবিকাশ ইনস্টিটিউট এবং সোসাইটি অব এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ার্স ইন নেপালের সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ কনফারেন্সের প্রথম দিনে একটি প্ল্যানারি, একটি বিশেষ সেশন এবং ছয়টি সমান্তরাল সেশনে মোট ১৯টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

এমইউ/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]