টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ ওয়ালটনের বিরুদ্ধে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৪৪ এএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১

‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১’ প্রকল্পের জন্য প্রায় চার লাখ ট্যাবলেট কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। যার জন্য ই-জিপি পদ্ধতিতে উন্মুক্ত দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা হয়। সেখানে অংশ নেয় ‘ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’।

তবে প্রতিষ্ঠানটির দরপত্র প্রস্তাবে বেশকিছু অসামঞ্জস্যতা পেয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। সেখানে ‘জাল ডকুমেন্ট দাখিল ও টেন্ডার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত’ করার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে তাদের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।

ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল আলম অভিকে দেওয়া এক চিঠিতে কৈফিয়ত চেয়েছেন ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১’ প্রকল্পের পরিচালক কবির উদ্দিন আহাম্মদ।

চিঠিতে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১’ প্রকল্পের আওতায় ট্যাবলেট ক্রয় সংক্রান্ত কার্যক্রমে ‘ট্যাবলেট ফর সিএপিআই ফর মেইন সেনসাস: টেন্ডার প্যাকেজ নং:জিডি৪৬এ’ (ই-জিপি টেন্ডার আইডি: ৫৯০৬৬৫) এর মাধ্যমে তিন লাখ ৯৫ হাজার ট্যাবলেট কিনতে ই-জিপি পদ্ধতিতে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়।

‘আহ্বান করা টেন্ডারে মনোনীত কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী, ডিএমডি ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পক্ষে দরপত্র দাখিল করেন। দরপত্র মূল্যায়নকালে দরপত্রদাতাদের দাখিল করা কাগজ যাচাই-বাছাইয়ের সময় ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড দাখিল করা দলিলাদি ও নমুনা ট্যাবলেটে নিম্ন বর্ণিত তথ্যাদির অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হয়, যা পিপিআর-২০০৮ এর বিধি ১২৭(২) মোতাবেক প্রতারণামূলক কাজ হিসেবে পরিগণিত হয়।’

চিঠিতে চারটি সুনির্দিষ্ট ‘অসামঞ্জস্যতা’ তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো-

১. সুনির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার সনদ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি ওয়ালটন প্লাজা এবং ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মধ্যে চুক্তিনামা সই হয়। কিন্তু কার্যাদেশ দেওয়া হয় ওই বছরের ৩ জানুয়ারি। ফলে ওইসব ডকুমেন্ট অসামঞ্জস্য মর্মে প্রতীয়মান হয়।

২. চুক্তিনামা সম্পাদনের তারিখ ০১/০১/২০১৯। কিন্তু ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প’ কেনার তারিখ ৩০ জুন ২০১১।

৩. টেন্ডার ডকুমেন্টে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রস্তাবিত ট্যাবলেটের ব্র্যান্ড ছিল ‘ওয়ালটন’ এবং মডেল ছিল ‘ওয়ালপ্যাড ৮জি’। কিন্তু নমুনা ট্যাবলেটের পেছনে স্ক্রিন প্রিন্টে ওয়ালটন লেখা থাকলেও ট্যাব সিস্টেম ওপেন করলে দেখা যায়, ব্র্যান্ড নাম ‘আলপস’ এবং মডেল নাম ‘আলপস ওয়ালপ্যাড ৮জি’।

৪. এছাড়া ওয়ালটন থেকে মনোনীত প্রতিনিধি মো. লিয়াকত আলী, ডিএমডির ক্রয় প্রক্রিয়া চলাকালীন বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে বিভ্রান্তিমূলক, অসত্য ও অপবাদমূলক তথ্য সম্বলিত আবেদন ও পত্রাদি দাখিল করেছেন, যা সরকারি কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার শামিল।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘সরকারি ক্রয় কার্যক্রমের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে জাল ডকুমেন্ট ও নমুনা ট্যাবলেট দাখিল পিপিআর-২০০৮ এর বিধি ১২৭ (২) (খ) ও ১২৭ (২) (ঘ) মতে প্রতারণা ও কার্যক্রমের ফলাফলকে প্রভাবিত করার শামিল। এমন প্রতারণা ও জবরদস্তিমূলক কার্য হিসেবে বিধিমালার ১২৭ (৪) বিধিমতে আপনার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার লিখিত জবাবপত্র প্রাপ্তির সাতদিনের মধ্যে নিম্ন সইকারী বরাবর পাঠানোর অনুরোধ করা হলো।’

এদিকে, এ চিঠির জবাবও দিয়েছে ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১’ প্রকল্পের পরিচালক কবির উদ্দিন আহাম্মদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত ২৭ সেপ্টেম্বর তাদের জবাব পেয়েছি। এখন সেটি রিভিউ করছি। রিভিউ শেষ হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এসইউজে/এএএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]