উত্তরাঞ্চলে আর কোনোদিন মঙ্গা ফিরে আসবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০৩ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০২১

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বর্তমান সরকারের নানা পদক্ষেপের ফলে এরইমধ্যে দেশ থেকে মঙ্গা দূর হয়েছে। মানুষ মঙ্গার কথা ভুলে গেছে। এ অবস্থায় আমাদের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত আগাম জাতের আমন ধানের চাষ রংপুর, নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করতে পারলে ভবিষ্যতে আর কোনোদিন মঙ্গা ফিরে আসবে না।

শুক্রবার (১ অক্টোবর) বিকেলে রংপুরের তারাগঞ্জে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) আয়োজিত বিনা-১৬ ও বিনা-১৭ জাতের ধানের নমুনা কর্তন ও মাঠ দিবসে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আশ্বিন-কার্তিক মাস আসলেই আগে উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা বা ‘আধা দুর্ভিক্ষ’ দেখা দিতো। বেশিরভাগ মানুষের ঘরে খাবার থাকতো না। আমন ধান ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত খাবার জুটতো না। কিন্তু এখন আর সে অবস্থা নেই। এখনও সারাদেশে আমনের ফসল আসতে যেখানে ১-২ মাস সময় লাগবে, সেখানে এই মুহূর্তে আমনের নতুন জাতের ধান পেকেছে। বিনার উদ্ভাবিত এ জাতগুলোর অপার সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে উৎপাদন ভালো, অন্যদিকে ১০০ দিনের মধ্যে পাকে। এ ধান কেটে আলু, সরিষাসহ অন্যান্য ফসল করা যাবে।

মন্ত্রী আমনের এ জাতগুলোকে দ্রুত কৃষকের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ফসলের নতুন বিন্যাসকে দ্রুত কাজে লাগাতে হবে। এ উন্নত আগাম জাতগুলো চাষ করলে মানুষের ঘরে আশ্বিন-কার্তিক মাসেও খাবার থাকবে।

agriculture-2.jpg

রংপুরের তারাগঞ্জে অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব কমলারঞ্জন দাশ, বিনার ডিজি মির্জা মো. মোফাজ্জল ইসলাম, রংপুরের জেলা প্রশাসক, স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, বিনা-১৬ ও বিনা-১৭ ধানের জাত হলো বিনা উদ্ভাবিত আমন মৌসুমের জন্য উচ্চফলনশীল ও স্বল্প জীবনকালের। বিনাধান-১৬ এর জীবনকাল মাত্র ৯৫-১০০ দিন এবং গড় ফলন বিঘা প্রতি ২৪ মণ। বিনাধান-১৭ এর জীবনকাল ১১০-১১৫ দিন এবং গড় ফলন বিঘা প্রতি ২৭ মণ। এ জাতগুলোর জীবনকাল কম হওয়ায় পানি ও অন্যান্য উপকরণ খরচ কম লাগে। বিনাধান-১৭ জাতে ইউরিয়া সার এক-তৃতীয়াংশ কম প্রয়োজন হয় ও ৫০ শতাংশ কম সেচ দিতে হয়।

অতীতে আমন ধানের জীবনকাল ছিল ১৬০-১৭০ দিন এবং ফলন ছিল বিঘা প্রতি মাত্র ৪-৫ মণ। সে তুলনায়, এই জাতগুলোর জীবনকাল প্রায় ৫০-৬০ দিন কম হওয়ায় আশ্বিন মাসে বিনার আমনের জাত পেকে যায়। ফলে, অগ্রিম ফসল ঘরে ওঠায় মঙ্গার সময় প্রান্তিক কৃষকের খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তাছাড়া, আগের জাতগুলোর জীবনকাল বেশি হওয়ায় উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকেরা বছরে দুটির বেশি ফসল চাষ করতে পারতেন না। এখন আমন কাটার পর এই অঞ্চলের কৃষকেরা সহজেই একবার বা দুইবার আলু চাষ করে থাকেন। নতুন শস্য বিন্যাসে আগাম আমন-সরিষা-বোরো বা আগাম আমন-আলু ২ বার-আউশ চাষ করা যাচ্ছে। এতে শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধি পেয়ে বছরে ৩-৪টি ফসল উৎপাদিত হচ্ছে। রংপুর অঞ্চলে দুইবার আলু চাষ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আগাম আলুতে কৃষক অধিক লাভবান হয়ে থাকেন।

এনএইচ/ইউএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]