বিআরটিএর প্লাটুন কমান্ডার বদলি, কমেছে দালালের দৌরাত্ম্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১০ পিএম, ০৬ অক্টোবর ২০২১

মিরপুর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয় ঘিরে দীর্ঘদিন সক্রিয় একটি দালালচক্র। এ চক্রের সঙ্গে বিআরটিএর কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িতও। ফলে সেবা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হন গ্রাহকরা।

আজ বুধবার (৬ অক্টোবর) বিআরটিএর চিত্র কিছুটা ভিন্ন। অন্যান্য দিনের মতো বিআরটিএ কার্যালয়ের আশপাশে দালালের দৌরাত্ম্য নেই। কার্যালয়ের ভেতরে ভোগান্তি ছাড়াই মিলছে সেবা।

সেবাপ্রার্থী ও বিআরটিএর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) বিআরটিএ কার্যালয় পরিদর্শন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরিদর্শনে এসে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম, ত্রুটি দেখতে পান। এসময় দালাল ও আনসার সদস্যদের দৌরাত্ম্য বিষয়ে তার কাছে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তখন তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন। তাই বুধবার ভোগান্তি ছাড়াই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন গ্রাহকরা।

অন্যদিকে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে দালালি ও টাকা লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় বিআরটিএর প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) ওমর মাহমুদকে মঙ্গলবার বদলি করা হয়েছে। বুধবার তার স্থলে নতুন কর্মকর্তা হিসেবে বিআরটিএতে যোগ দিয়েছেন প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) মশিউর রহমান।

jagonews24

বিআরটিএ সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে বিআরটিএ কার্যালয় পরিদর্শনে যান সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তখন তার কাছে মোকলেস নামে এক সেবাপ্রার্থী আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে কাজ না করার অভিযোগ করেন। এসময় সেতুমন্ত্রী পিসি ওমর মাহমুদকে ঢেকে আনেন। দুর্নীতিতে আনসার সদস্যরা জড়িয়ে পড়ায় তাকে সতর্ক করেন। এছাড়া বিআরটিএকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দালালচক্রের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন। মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর আনসারের পিসি ওমর মাহমুদকে বদলির সিদ্ধান্ত হয়।

জানতে চাইলে ওমর মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, আনসারের কোনো সদস্য দুর্নীতি করলে তার দায় প্রধান হিসেবে আমার ওপরই বর্তায়। তাই মন্ত্রী আমাকে ডেকে নিয়ে এ বিষয়ে অবহিত করেন। আজ জানতে পারি আমাকে মেট্রোরেলে বদলি করা হয়েছে। তবে মন্ত্রী পরিদর্শনের পর থেকে বিআরটিএতে দালালের দৌরাত্ম্য নেই বললেই চলে। আনসার সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে।

ধানমন্ডি এলাকায় বিআরটিএ কার্যালয়ে নিজ ব্যক্তিগত গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা করতে গেছেন মোবারক হোসেন। তেমন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই তিনি ফিটনেস পরীক্ষা করার সুযোগ পেয়েছেন। মোবারক জাগো নিউজকে বলেন, ভাবছিলাম ফিটনেস পরীক্ষায় ভোগান্তি পোহাতে হবে। কিন্তু তেমন কোনো ঝামেলা ছাড়াই কাজটা করতে পেরেছি। দালালের দৌরাত্ম্যও চোখে পড়েনি।

এমএমএ/এমএএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]