ডিমের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১৮ পিএম, ০৮ অক্টোবর ২০২১

সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে ডিমের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

শুক্রবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা ও বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এসময় মন্ত্রী বলেন, সমৃদ্ধ জাতি গড়তে হলে পুষ্টিসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে হবে। পুষ্টিসম্মত খাবারের অন্যতম উপাদান ডিম। ডিমের প্রয়োজনীয়তা গ্রামে-গঞ্জেসহ সব জায়গায় ছড়িয়ে দিতে হবে। দেশের প্রতিটি মানুষ যেন বুঝতে করতে পারে, খাবারের শ্রেষ্ঠতম একটা উপকরণ হলো ডিম।

তিনি বলেন, এই খাদ্য উপাদান যেন ব্যয়বহুল না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যতটুকু ব্যয় হয় সেটা কীভাবে কমানো যায় সেজন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে যৌথ পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে ব্যয়ের কারণে ডিম যেন মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে না যায়। ডিমের উৎপাদন বাড়ানো ও সহজলভ্য করার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে, উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে, স্বনির্ভর করতে হবে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুণগত উন্নয়নে বিশ্বাস করেন। তিনি দেশের সবকিছুতে টেকসই উন্নয়নের কথা বলেন তিনি। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতের এগিয়ে যাওয়া বিস্ময়কর। এ খাতের উন্নয়নে শেখ হাসিনা সরকার ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, পোল্ট্রি খাতের সমস্যা সমাধানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় তৎপর রয়েছে। করোনার সময় পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতের বিপর্যস্ত অবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। বার্ড ফ্লু সংক্রমণ থেকে পোল্ট্রি খাতকে রক্ষার জন্য শেখ হাসিনা সরকার যেভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই ধারা বজায় রেখে এ খাতকে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

reza1

তিনি বলেন, বর্তমানে পোল্ট্রি ও ফিশ ফিডের মূল্য বাড়ানো বন্ধ করতে আমরা তৎপর রয়েছি। আমি আশ্বস্ত করতে চাই, পোল্ট্রি খাতকে বিকশিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষ থেকে যত ধরনের সহযোগিতা, পৃষ্ঠপোষকতা দরকার সেটা দেওয়া হবে। বাংলাদেশে যাতে এ খাত পিছিয়ে না পড়ে সে ব্যাপারে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, পুষ্টি চাহিদা মেটাতে বেশি বেশি ডিম খেতে হবে। ডিম খাওয়ার ব্যাপারে বিভ্রান্তির বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে এসে মানুষকে সচেতন করতে হবে। পুষ্টি চাহিদা পূরণের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারলে আমাদের আয়ুষ্কাল বাড়বে। আজ দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। মাতৃমৃত্যু হার, শিশুমৃত্যুর হার অনেক কমে গেছে। এটা এমনি এমনি হয়নি। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত প্রয়াসে চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যের যোগান ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

বিপিআইসিসির সভাপতি মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. শেখ আজিজুর রহমান ও এফএও’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন বিপিআইসিসির সহ-সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ।

অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী ও বারডেম হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ মহুয়া। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএলআরআই ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাক্তন ও বর্তমান কর্মকর্তা এবং পোল্ট্রি খাত বিশেষজ্ঞ, বিপিআইসিসি, ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা ও এফএও’র প্রতিনিধিরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এসময় সব বয়সের জনগণকে ডিম খেতে উৎসাহিত করার জন্য অনুষ্ঠানে প্রতীকী হিসেবে দুজন শিশু ও দুজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে ডিম খাওয়ান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব।

আজ ৮ অক্টোবর ‘প্রতিদিন ডিম খাই, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াই’এই প্রতিপাদ্যে সারাদেশে বিশ্ব ডিম দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।

আইএইচআর/এআরএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]