‘মামলার খরচ জোগাতে’ শখের কম্পিউটার বেচলেন সাংবাদিক সরওয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১২:৪৫ এএম, ১১ অক্টোবর ২০২১

‘২৮ সেপ্টেম্বর গেলাম। দুদিন পর ৩০ সেপ্টেম্বর আবার গেলাম। নারাজির আদেশ পেতে রোববারও (১০ অক্টোবর) গেলাম কোর্ট বিল্ডিং এলাকায়। অপহরণের বিচার চাইতে গিয়ে এভাবে কোর্টে বারবার চক্কর দিচ্ছি। এরই মধ্যে দুটি উল্টো মিথ্যা মামলার আসামি হয়ে গেলাম। কোর্টে গেলে ন্যূনতম খরচ তো আছে। মামলার খরচ জোগাতে এরই মধ্যে বেচে দিলাম শখের কম্পিউটার।’

বলছিলেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক গোলাম সরওয়ার। তিনি সাপ্তাহিক আজকের সূর্যোদয়ের চট্টগ্রামের স্টাফ রিপোর্টার এবং সিটিনিউজ নামের স্থানীয় একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের নির্বাহী সম্পাদক।

গত বছরের ২৮ অক্টোবর নগরের ব্যাটারি গলির বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তিনি। এর কয়েকদিন পর ১ নভেম্বর তাকে সীতাকুণ্ড থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ৪ নভেম্বর বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ছয় আসামির বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন গোলাম সরওয়ার।

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ধর্মেন্দু দাশ ৬ মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তথ্যগত ভুল ও অপহরণের আলামত না পাওয়ার কথা বলা হয় প্রতিবেদনে। ফলে ২৮ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদনের ওপর নারাজি দেন সাংবাদিক সরওয়ারের আইনজীবী।

নারাজির শুনানিতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হতে আদেশ দেওয়া হয়। সেদিন আবারও শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন।

সবশেষ রোববার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমানের আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গোলাম সরওয়ারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আশরাফ উদ্দিন খন্দকার রনি জাগো নিউজকে বলেন, কোতোয়ালি থানার তদন্ত কর্মকর্তা একটি দায়সারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। আমরা প্রতিবেদনের ওপর নারাজির আবেদন করি। শুনানি শেষে আদালত মামলার সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি পিবিআইকে পুনঃতদন্তের আদেশ দেন।

মিজানুর রহমান/জেডএইচ/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]