দায়িত্বশীলদের উদাসীনতায় নিরাপদ খাদ্য পাচ্ছে না জনগণ: পবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০০ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০২১

জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় সংসদ কর্তৃক সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করা হলেও জনগণ এর কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছে না। এ জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার যথাযথ উদ্যোগ ও অঙ্গীকারের অভাব এবং বিষাক্ত খাদ্যের কারণে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি অনুধাবনে উদাসীনতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মোহাম্মদ আকরাম খাঁ মিলনায়তনে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) আয়োজিত বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে এক সেমিনারে বক্তারা একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এসব আইন বস্তুবায়নকারী সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা যেতে পারে। অন্যথায় বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে ধীরে ধীরে আমরা পঙ্গু জাতিতে পরিণত হবো।

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ আয়তনে ছোট ও দুর্যোগপূর্ণ দেশ হলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে পাল্লা দিয়ে বর্তমানে ধান, মাছ ও সবজি উৎপাদনে এগিয়ে চলছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে বিগত চার বছরে বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরে সেটা ছয় গুণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন এই খাতের ব্যবসায়ী ও কৃষি অর্থনীতিবিদরা।

‘২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানি হতো মাত্র ৫৫ কোটি ডলারের। ২০২০-২১ অর্থবছরে কৃষিপণ্য রপ্তানি থেকে ১০৩ কোটি ডলার আয় হয়েছে। তবে পরিতাপের বিষয় বিশ্বমানের কৃষিপণ্য উৎপাদনে ফাইটোস্যানিটারি (উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সম্পর্কিত) সনদ ও গুড এগ্রিকালচার প্রাক্টিস (গ্যাপ) নিশ্চিত করে পণ্য তৈরি করতে না পারায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমাদের নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। যেমন রাশিয়ায় আলু রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ফিজির একদল বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে সফর করে আলুর প্রতি আগ্রহী হলেও তাদের ফাইটোস্যানিটারি শর্তাদি পূরণ করতে না পারায় আলু রপ্তানির সুযোগ থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি।’

সেমিনারে বক্তারা আরও বলেন, উৎপাদিত কৃষিপণ্যে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের বিষক্রিয়া পরীক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন। দেশে বিশ্বমানের ল্যাবরেটরি স্থাপন ও রপ্তানিতে শুল্ক- অশুল্ক বাধাকে অতিক্রম করতে পারলে তৈরি পোশাক শিল্পের পর সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হিসেবে কৃষিপণ্য উঠে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

সেমিনারে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে করণীয় হিসেবে বলা হয়-

১। খাদ্যে রাসায়নিক দ্রব্যাদি মেশানোর সঙ্গে জড়িত এবং রাসায়নিক দ্রব্যাদিযুক্ত ও ভেজাল খাদ্য বিক্রয়কারীদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দণ্ড প্রদান অব্যাহত রাখা।

২। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯, নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এবং ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৫ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।

৩। জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে খাদ্যে বিষ বা ভেজালরোধে কোনো রকম বৈষম্য বা রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়াই আইন প্রয়োগে সরকারের প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

৪। বিষ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারকে খাদ্যে বিষ ও ভেজাল মিশ্রণের উৎসমূল থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৫। সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ রাসায়নিক পদার্থের আমদানিকারক ও ব্যবহারকারী এবং লেবেল ছাড়া বা মিথ্যা লেবেলের অধীন কীটনাশক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৬। সময়োপযোগী কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করা।

৭। গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে কৃষক, উৎপাদনকারী, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের রাসায়নিক দ্রব্যাদি, কীটনাশক, ভেজাল মিশ্রণের ক্ষতিকর দিক এবং আইনে বর্ণিত দণ্ড তুলে ধরে সচেতন করা।

৮। পণ্য আমদানি পর্যায়ে এনবিআর কর্তৃক বন্দরসমূহে বিভিন্ন রাসায়নিক প্রব্যাদি পরীক্ষা করা।

৯। খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারকরণ এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা।

১০। বিষযুক্ত খাদ্যের ভয়াবহ বিপদ থেকে পরিত্রাণ পেতে দেশে জৈব কৃষি ব্যবস্থার প্রচলন ও একে জনপ্রিয় করে তোলা।

১১। ২০১৯ সালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবটি দ্রুত কৃষকদের জন্য চালু করতে হবে যাতে তারা তাদের উৎপাদিত পণ্যের মান ঠিক রেখে দেশে এবং দেশের বাইরে রপ্তানি করতে পারেন।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সোবাহান, বারসিকের পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ্বাস প্রমুখ।

এমআইএস/কেএসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]