শেখ রাসেলের হত্যায় খুনিরা মানবতাকে হত্যা করে: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:২০ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২১

মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা পরাজয়ের গ্লানি মোচন করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। খুনিরা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধু পরিবারের কোনো সদস্যের নেতৃত্বে যেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ঘুরে দাঁড়াতে না পারে। শেখ রাসেলকে হত্যা করে খুনিরা মানবতাকে হত্যা করেছে।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের জন্মদিন “শেখ রাসেল দিবস-২০২১” উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আত্মস্বীকৃত খুনিরা শিশু রাসেলকে হত্যার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু খুনিরা তা পারেনি। বাংলাদেশ ও বিশ্বের কোটি কোটি শিশু, কিশোর ও তরুণ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে বিকশিত হচ্ছে। স্বাধীনতাবিরোধী ও ষড়যন্ত্রকারীদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।

ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা আরও বলেন, শেখ রাসেল ছিল জাতির পিতার পরিবারের সবার চোখের মণি। সে তার সরলতা, উদারতা, মানবিকতা ও শিশু বয়সের নেতৃত্বের গুণাবলি দিয়ে সবার হৃদয়ের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছিল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা মানবিক মানুষ হও। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠো।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান লাকী ইনামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন শিশু একাডেমির মহাপরিচালক জ্যোতি লাল কুরী।

শেখ রাসেল দিবস-২০২১ বর্ণাঢ্যভাবে উদযাপনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি বিভিন্ন কর্মসূচি করে। এর মধ্যে সকালে শিশু একাডেমি আর্ট গ্যালারিতে ছিল শিশুদের আঁকা ছবি এবং বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ছবির প্রদর্শনী। দুপুরে শিশু একাডেমির অডিটোরিয়ামে প্রদর্শিত হয় ‘একাত্তরের মিছিল’, ‘খুকু ও কাঠবিড়ালি’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধ ও জীবন’ শিশুতোষ চলচ্চিত্র। শিশু একাডেমির মৃত্যুঞ্জয়ী শেখ রাসেল গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয় শেখ রাসেলের আলোকচিত্র। শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে শিশু একাডেমি আয়োজন করে জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের নিয়ে ছয়টি ক্যাটাগরিতে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রাম চন্দ্র দাস, অতিরিক্ত সচিব ফরিদা পারভীন ও অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিবুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয় ও দপ্তর সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও অভিবাবকরা। আলোচনা পর্ব শেষে শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। পরে শিশুদের পরিবেশনায় ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আইএইচআর/এমকেআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]