প্রতিবন্ধী স্বামীর ‘অসুস্থতা’ যখন আয়ের উৎস

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:৩০ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২১

রাজধানীর কাঁটাবন থেকে নীলক্ষেত অভিমুখে একটি ভ্যানগাড়ি ধীর গতিতে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছিলেন এক নারী। ভ্যানগাড়িতে উপুড় হয়ে শুয়ে আছেন এক ব্যক্তি। ভ্যানগাড়িটি ঠেলে নিয়ে যেতে ওই নারীকে সাহায্য করছিলো ছোট্ট তিন মেয়ে শিশু। ভ্যানগাড়িটি কাঁটাবনের বিভিন্ন দোকানের সামনে যখনই থামছিল তখনই হ্যান্ড মাইকে ভেসে আসছিল ‘সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, অসুস্থ হওয়ার আগে আমি ভালো একটি কাজ করতাম। আমার ঘরে ছোট ছোট তিনটি মেয়ে। অসুস্থ শরীরে আমার স্ত্রী ও ছোট ছোট তিন শিশুকে নিয়ে জীবনযাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই দয়া করে সাহায্য করুন, আমিও বাঁচতে চাই।’ এ অবস্থায় দেখে দোকানিরা কেউ কেউ তাকে ১০/২০ টাকা সাহায্য করছিলেন।

সাইফুল ইসলাম নামে ওই ব্যক্তির স্ত্রী রোজিনা জানান, তার স্বামী আগে পিকআপ ভ্যান চালাতেন। তিন বছর আগে দুর্ঘটনায় তার স্বামীর মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। এরপর অপারেশন করালেও আর সুস্থ হননি। স্বামীর অসুস্থতায় সংসার চালানো দায় হয়ে পড়ে। ছোট ছোট তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখেন। পরবর্তীতে ভ্যান ভাড়া করে রাস্তায় নেমে অসুস্থ স্বামীর জন্য সাহায্য তুলে সংসার চালানো শুরু করেন।

jagonews24

তিনি জানান, বাসা রাজাবাজার হলেও ভ্যানগাড়িতেই সংসার পেতেছেন তারা। বিছানা, বালিশ, চাদর পেতে শুয়ে থাকেন সাইফুল। তার স্ত্রী ও শিশুরা ভ্যানগাড়ি ঠেলে ঠেলে রাজধানীর এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় ছুটে যান।

সাইফুলের উপুড় হয়ে শুয়ে থাকার কারণ জানতে ভ্যানগাড়িতে উকিঁ দিয়ে দেখা যায়, শুয়ে থাকতে থাকতে পিঠে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। কেমন আয় রোজগার জানতে চাইলে রোজিনা জানান, প্রতিবন্ধী স্বামীকে অনেকেই সাহায্য করেন। দৈনিক এক হাজার টাকা আয় হয় বলে জানান তিনি।

তবে নীলক্ষেতের কয়েকজন দোকানির দাবি, প্রতিবন্ধী অসুস্থ এই ব্যক্তি তার স্বামী কিনা কিংবা শিশুগুলো তাদের সন্তান কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। অনেক সময় অসুস্থতাকে পুঁজি করে অনেকেই সাহায্যের নামে ব্যবসা খুলে বসেন। অনেক সময় স্ত্রী ও সন্তান নিজের না হলেও ভাড়ায় এনে সাহায্য তোলা হয়।

এমইউ/কেএসআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]