মোবাইলে যুবলীগ চেয়ারম্যান পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার ২

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৯ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২১

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের মোবাইল নম্বর স্পুফকারী ফিরোজ খন্দকারকে গ্রেফতার করেছে ডিবির সাইবার ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। তার সহযোগী মো. রাকিবুল ইসলামকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজীমনগর ইউনিয়ন থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে সাইবার ইনভেস্টিগেশন বিভাগের ইন্টারনেট রেফারেল টিমের লিডার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাইবার পুলিশ জানায়, ফিরোজ খন্দকার গ্রেফতারের আগে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষাধিক টাকা। তিনি ঢাকার খিলখাঁও থেকে কেরানীগঞ্জের মধ্যে বিভিন্ন বুথ থেকে এ প্রতারণার টাকা তোলেন। সন্দেহ এড়াতে মোটরসাইকেলে চড়ে বিভিন্ন বুথ থেকে অল্প অল্প করে টাকা তোলেন।

তবে শেষ রেহায় পাননি ফিরোজ খন্দকার। অভিযোগ পেয়ে পুলিশের সিটি সাইবার ইন্টারনেট রেফারেল টিম খিলখাঁও ও কেরানীগঞ্জের যেসব বুথ থেকে ফিরোজ খন্দকার টাকা তোলেন তার সবগুলোর ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে।

প্রযুক্তির সাহায্যে নানান তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ফিরোজ খন্দকারকে সোমবার রাত ১টা ৫ মিনিটে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা আজীমনগর থেকে সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়।

শেখ ফজলে শামস পরশের মামলায় গ্রেফতার হলেও ফিরোজের নামে আরও তিনটি প্রতারণার মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গোয়েন্দারা জানান, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের মোবাইল নম্বর স্পুফ করে সংগঠনের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন এই ফিরোজ। এ কাজে ফিরোজ খন্দকার প্রথমে ইন্টারনেট থেকে যুবলীগের বিভিন্ন কমিটির গুরুপত্ব পূর্ণ নেতাদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। তিনি ডায়ালার অ্যাপের মাধ্যমে নম্বর স্পুফ করে তাদের কল করতেন। পরে সিটি সাইবারের ইন্টারনেট রেফারেল টিম প্রযুক্তি ও বুথের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে ফিরোজ খন্দকারকে শনাক্ত করে।

ফিরোজ খন্দকার এসব ফোন কলে সরাসরি টাকা চাইতেন না। বিভিন্ন কর্মসূচির কথা বলে তিনি যুবলীগ চেয়ারম্যান পরিচয়ে টাকা দাবি করে বিকাশ-রকেট নম্বর দিয়ে টাকা চাইতেন। সংগঠনের চেয়ারম্যানের কল পেয়ে নেতারা উৎফুল্ল মনে টাকা পাঠাতেন। আর প্রতারক রাজধানীর বুথগুলো থেকে এ টাকা তুলতেন। ফিরোজ রাজধানীর খিলখাঁও থেকে শুরু করে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত বিভিন্ন বুথে মোটরসাইকেলযোগে গিয়ে এ টাকা উত্তোলন করতেন।

তবে এসব ঘটনা একসময় যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের কাছে চলে যায়। তিনি বাধ্য হয়ে তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ করে দেন। তিনি বুঝতে পারেন তার নম্বরটি ক্লোন করে অর্থ আত্মসাৎ করছে একটি চক্র। তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি সতর্কতামূলক পোস্ট করেন।

যুবলীগ চেয়ারম্যানের হয়ে ১৫ অক্টোবর রাজধানীর বনানী থানায় ওই প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা করেন ব্যারিস্টার রানা তাজউদ্দিন খান। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৪ ও ২৬ ধারায় মামলাটি করা হয়। এতে মোবাইল নম্বর ক্লোনিং করে টাকা দাবির অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়। মামলার পরপরই সাইবার সিটি তদন্তে নামে। তদন্তের এক পর্যায়ে ফিরোজ খন্দকারকে শনাক্ত করে সাইবার সিটি।

সূত্র জানায়, যুবলীগ চেয়ারম্যানের নাম করে তার ব্যবহৃত রবি নম্বরটি ক্লোন করে গত ৯ অক্টোবর প্রথম কল করা হয় গাইবান্ধা যুবলীগের সভাপতি সরদার মো. শাহীন হাসান লোটনের গ্রামীণফোন নম্বরে। সংগঠনের জন্য চাঁদা হিসেবে তাকে একটি রকেট নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হয়। একইদিন নেত্রকোনা যুবলীগের আহ্বায়ক জনি ও সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের চপলকে ফোন করে বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হয়।

১০ অক্টোবর মুশফিকুল ইউনুস জায়গীরদার নামে এক ব্যক্তি ও পাবনা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সনি বিশ্বাসকে ফোন করে বিকাশে টাকা চাওয়া হয়। এছাড়াও গত কয়েকদিনে একই পরিচয়ে দেশের কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ফোন করে টাকা দাবি করে প্রতারক চক্রটি।

সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন পরশ। তবে শনিবার (১৬ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে বিষয়টি খোলাসা করেন তিনি। শেখ পরশ বলেন, সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি। যুবলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সকলকে এই মর্মে সতর্ক করা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সম্মানিত চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের মোবাইল নম্বর ক্লোন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে ফোন করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টাসহ নানা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে একটি প্রতারক চক্র। অনুগ্রহপূর্বক কেউ প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা দেবেন না।

এসইউজে/টিটি/ইএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]